কেন অগ্রজ কবি সাহিত্যিকদের নিয়ে আর্টিকেল লেখা উচিত না ।। তালাশ তালুকদার


আপনি কেন অগ্রজদের নিয়ে লিখবেন? কি কারণে লিখবেন? প্রথমত, আপনে যখন অগ্রজ কাউকে নিয়ে লিখবেন তখন বাকিরা মনে করবে নিজের লেখা বাদ দিয়ে অন্যকে তুলে ধরার মাধ্যমে সাহিত্যে রাজনীতি করতে এসেছে। প্রকারান্তরে এটাকে অনেকে দালালীও বলতে চাইবে। ফলে, আপনার যতই ভাল লাগা থাকুক নিউ কামার যারা লিখতে এসেছে তাদের জন্য এই ওয়েটা পজিটিভ হবে না। 

আপনি কি সবাইকে খুশি করতে পারবেন? কিংবা করা উচিত? মানে, আপনার রুচি, চিন্তা একুরেট হবে কি অন্যদের ক্ষেত্রেও? মানে, সবার লেখাই একজনকে ভাল লাগাতে পারে? পারবে কখনো? দেখা যাবে, যারা সাহিত্য করে তারা সাহিত্যের রাজনীতিতে অভ্যস্ত না। আবার যারা সাহিত্য রাজনীতি করে তাদের সাহিত্য আবার অতোটা গুরুত্বপূর্ণ না। এইখানে একজন তরুণ লেখকের কাজ কি হবে? এইটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

একজন নতুন লেখক ব্যালান্স করার জন্য লিখবে নাকি সত্যিকারের লেখকের লেখাটারে আবিস্কার করার জন্য লিখবে? একজন নতুন লেখক যদি সাহিত্য করতে এসে এইসব ব্যালান্স করার ধান্ধায় মশগুল থাকে তাহলে সেইটা সাহিত্যের জন্য সুখকর নয় নিশ্চয়ই। 

দ্বিতীয়ত, যারে নিয়ে লিখা হবে সেই অগ্রজ লেখকই এমন উচ্চ মনোভাব প্রদর্শন করবে যে, এটা তার জন্য খুব স্বাভাবিক ঘটনাই। ভাবখানা এমন যে, এই লেখার কারণে তার জন্য পৃথিবীতে কোথাও কোনো ঘটনাই ঘটে নাই। ঘটলেও সেইটা খুব স্বাভাবিক ঘটনাই। হাজারও কষ্ট করে তার জন্য যে থিসিস পেপার লেখা হলো, সে লেখা তার কাছে গ্রহণীয় না হওয়ার ফলে ঐ লিখিয়ের প্রকারান্তরে আমও গেল ছালাও যাওয়ার মত অবস্থা হতে পারে তখন। কেননা যাকে নিয়ে লেখক লিখেছে তার কাছে এবং অন্য সবার কাছেও অলিখিতভাবে শত্রুই হয়ে উঠবে ততোদিনে।

ফলে, আপনি যাকে নিয়ে লিখতেছেন, কিংবা লিখবেন সে যদি আপনার প্রতি কমিটেড না থাকে তাহলে আপনার নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার সমতুল হবে।

সবচেয়ে হতাশার কথা হইলো, যে অগ্রজকে নিয়ে লেখা হইতেছে, লেখায় সে অগ্রজেরই গুণকীর্তনই করা লাগবে, নিজের বোঝাপড়ার কথা সে লিখতে পারবেবেনা। যেহেতু অগ্রজরা মনেই করে তাকে নিয়ে লিখতেছে তাকে খুশি করার জন্যই লিখবে। যথার্থ্য সমালোচনা এক্ষেত্রে তাকে করা যাবেনা। করলেও সে অগ্রজ লেখককে আর কোনোক্রমেই গোনায় ধরবেনা। অগ্রজরা সারাজীবনই চায়, তাকে নিয়ে প্রশংসা বাক্য দিয়ে পৃষ্টা ভরে উঠুক। 

একজন তরুণ লিখিয়ের সমস্যা এই জায়গাতেই শেষ নয়। আপনি লিখে যাকে যাকে হাইপে তুলে ধরতেছেন দিনশেষে আপনার জন্য অন্যদের কাছে থেকে জুটছে, ভর্ৎসনা, তীরস্কারের মালা। ইভেন যার অনুগত বলে নিজেকে ভাবছেন তার কাছ থেকেও এসবই জুটবে। তাহলে কেন একজন তরুণ লিখিয়ে খাল কেটে কুমির আনতে যাবেন? সে কি সাহিত্যের বড় বড় গোষ্ঠীর দলভুক্ত হওয়ার জন্য লিখবে? সে কি দৈনিকের সাহিত্য পাতার সম্পাদক হওয়ার জন্য লিখবে? নাকি নিছক সাহিত্য পাতাতে নিজের নামটি দেখার জন্য লিখবে? নাকি চাকরি পাওয়ার জন্য লিখবে? নাকি ভাল প্রকাশনী থেকে বই করার লোভে? নাকি পুরস্কার পেতে? অবশ্য এসব কিছু সাময়িকভাবে টিকে থাকবার জন্য লাগে কিন্তু সত্যিকারের লেখক হয়ে উঠার জন্য একজন লেখককে এসবের কিছুই করার লাগেনা। তবে এসবের বাইরেও অনেকে দর্শনগত, রুচিগত মিল থাকার কারণে সেসব লেখককে নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে লিখা যেতে পারে। এতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু যখনই সে লেখাতে স্বার্থগত ব্যাপার থাকবে তখুনি সে লেখাটা দুষনীয় হয়ে উঠবে।


মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ