পাঠকের রুচির সাথে আপোষ করে এক ঢোক পানি গেলাও উচিত না ।। ‌তালাশ তালুকদার

এই ইন্টারভিউখানা ২০১৩ সালে তানিম কবির নিয়েছিল। আমি লিখিত কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলাম। প্রকাশ পেয়েছিল banglanews24.com:এ। 


তানিম কবির : কবিতা কেন লিখেন— একজন কবি এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে বাধ্য কি না? যদি বাধ্য নন— তো কেন? আর হোন যদি— আপনার প্রতিও একই প্রশ্ন; কেন লিখেন কবিতা?

তালাশ তালুকদার: বাধ্য না হয়ে যে কথা বলা যায় সে কথাটিই বলি, আবিস্কারের প্রতি একধরণের মোহ আছে আমার। যেহেতু কবিতা ব্যতিত অন্য কোনো কিছু আবিস্কারে মন বসে না সেহেতু কবিতাবিস্কারই আমার কাছে পরম আরাধ্যতা। স্বতোদ্ভাসিত হতে কবিতাই আমার কাছে মোক্ষলাভের একমাত্র অস্ত্র।

তানিম কবির : ‘সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি’— এই ‘কেউ কেউ’ বা ‘কারও কারও’ কবি হয়ে ওঠায় ঐশীপ্রাপ্তির কোনও ঘটনা থাকে কি? নাকি পুরো ব্যাপারটাই রেওয়াজ নির্ভর? আপনার কী মনে হয়?

তালাশ তালুকদার: স্পেশালাইজেশন করাটা খুব কঠিন। যদি রেওয়াজনির্ভরই হয় তবে একজন সঙ্গীতশিল্পীর মতো হারমোনিয়াম সুর তুলতেই যেমন গানে গলাটা বেজে ওঠে তেমন করে কই, ঘন্টার পর ঘন্টা খাতা কলম এবং নির্জনতা নিয়ে বসে থাকলেও লিখতে পারিনা কেন? কেন ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়? আবার ঐশীপ্রাপ্তিতেও আমার আস্থা একেবারেই শূন্যের কোঠায়। কেননা যা কিছু লিখি সেসব দৈনন্দিন রঙ্গনির্দেশেই তো লিখি। তাতে শ্রমের যোগসূত্রতা থাকে। তাহলে কি এসব স্বজ্ঞার ইন্টারপ্রিটেশন? হয়তো এ দুয়ের যোগসূত্রতাতেই কবিতা স্বতোদ্ভাসিত। নয়তো কবি হয়ে ওঠার পেছনে যা কিছু বলতে চাওয়া তার সবটাই হয়তো পাঠকদের কাছে ভ্রম রূপে চিহিৃত হবে। অদ্ভুত সংশ্লেষে সান্ধ্যাভাষাগুলো কবির কলমে যেভাবে চলে আসে সে ন্যারেশনের স্পষ্টতা খুঁজে পাওয়া সত্যিই দুরুহ। তবে এটা বুঝি সাধনাটা জরুরী সঙ্গে ক্রিয়াটাও।

তানিম কবির : এখনকার কবিদের ছন্দবিমুখতার কারণ কী বলে মনে হয় আপনার? কবিতার জন্য ছন্দের প্রয়োজনীয়তা কতোটুকু? কবিতার স্বতঃস্ফূর্ত বিস্তারে ছন্দ আপনার কাছে সহায়ক নাকি প্রতিবন্ধক?

তালাশ তালুকদার: ছোট ছোট পটকাকে তো আর গ্রেনেড বলা যায় না। গ্রেনেডে রূপান্তরিত হতে হলে তার পরিধি, ওজন তার ব্যাপকতা ব্যাপক থাকা চাই। কবিতাতে হাই সিরিয়াসনেস না হলে তাকে কবিরূপে সম্বোধন করতে আমার এক ধরণের আপত্তিবোধ কাজ করে।

কবিতায় ছন্দ ব্যবহার অনেকটা ক্রিকেট ব্যাটসম্যানের মতো। যার হাতে থাকে প্রচুর শর্ট। যেমন, উপুর কাট, লেগ কাট, সুইপ, প্যাডল সুইপ, স্ট্রেট ড্রাইভ, হুক, স্কয়ার কাট ইত্যাদি ইত্যাদি। কবিতায়ও তেমনি বিভিন্ন উপাদানে ভরপুর থাকে। আমরা মূলত, ভালো ড্রাইভ শর্ট জানা খেলোয়াড়কেই ভালো ব্যাটসম্যান হিসেবে চিহিৃত করি। বোলারের বহুমুখি বলের ধরণে তাকে ব্যাট পেতে রাখতে হয় যার অধিকাংশই ড্রাইভ শটে মোকাবিলা করতে হয়। একজন ভালো ড্রাইভ শর্ট জানা যেমন ভাল ব্যাটসম্যানের লক্ষণ তেমনি ছন্দ জানা ও প্রয়োগবিধিতে নিপুণ কারিগরও তেমনি ভালো একজন কবির পরিচয় বহন করে। তবে সবটাই নয়। এ এক মস্ত বড় গুণ। তবে যেন শুধুমাত্র ছন্দের জন্যই কবিতা লেখা না হয়। মনে রাখা জরুরি, ছন্দের প্রয়োজনে কবিতা নয়, কবিতার প্রয়োজনে ছন্দ। ছন্দকে জোর করে আরোপিত করার বিষয় নয়। ওকে কবিতার ভাব, ভাষা, আর মেজাজের উপর ছেড়ে দাও, ও এমনিতেই ওর হৃদপিন্ডকে সাজিয়ে তুলবে। একজন দক্ষ ব্যাটসম্যান বলের গুণাগুণ বিশ্লেষণ করে খেলে যেমন তেমন করে কবিতার স্বতঃস্ফূর্ত বিস্তারে ছন্দের মহিমা আপনার কাব্যকে গুণান্বিত করে।

একটি ভালো কবিতা লেখার জন্য বিভিন্ন উপাদানের সমন্বয়তা জরুরী। আর ছন্দ যেহেতু কবিতার একটা উপাদান অতএব কবিতার স্বতঃস্ফূর্ত বিস্তারে ছন্দ প্রতিবন্ধক হবে কেন?

তানিম কবির : দশকওয়ারী কবিতা মূল্যায়নের প্রবণতাটিকে কিভাবে দেখেন? আপনার দশকের অন্যান্য কবিদের কবিতা থেকে নিজের কবিতাকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করার উপাদানসমূহ কী বলে মনে হয় আপনার?

তালাশ তালুকদার: দশক যেনবা একটি বিশাল পেইন্টিংয়ের এক পোঁচ আঁচড়মাত্র। মহাকাল সেখানে সমাপ্ত এক পেইন্টিং। হ্যাঁ, ব্যাপারটি আসলে এরকমই। এক পোঁচ আঁচড় ব্যতীত যেমন একটি পেইন্টিং অসমাপ্ত থাকে তেমনি একটি দশক ব্যতীতও শতাব্দীর ক্যালেন্ডার অসমাপ্ত থাকে। বোঝা দরকার, ‘দশক’ শব্দটির প্রাসঙ্গিকতা আছে বলেই দশক নিয়ে এত হৈচৈ, এত বলাবলি, কানাঘুষা। দশক সংকলনে ঠাঁই না পেয়ে মুখ গোস্মা করে হাঙ্গামা বেঁধে ফেলার কান্ডটাও তো দেখেছি ফেব্র“য়ারির বইমেলাগুলোতে। সমস্যা কি দশকওয়ারি কবিতা মূল্যায়নে। দশকীয় হোক, শতকীয় হোক, অর্ধশতকীয় হোক, হোক না কবিতার মূল্যায়ন। তাতে কবিতার লাভ। যত মূল্যায়িত হবে ততই কবিতার দিগন্ত হবে উন্মোচিত। কই, দশকওয়ারি কবিতা মূল্যায়নে কবিতা কি মরে গেছে? বরঞ্চ প্রতিযোগিতা বেড়েছে, অন্যকে ছাড়িয়ে যাবার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। সমালোচনা সাহিত্য তৈরি হচ্ছে, এসবই পজিটিভ দিক। অতএব, বাংলা কবিতার ইতিহাসে দশক শব্দটিকে এভোয়েড করি কিভাবে? বুদ্ধদেব বসু’র পশ্চিমা থেকে আমদানীকৃত ‘দশক’ শব্দটির প্রতি আমার মূল্যায়ন এমনই। তবু বলি, মৌচাকে হাজারো মৌমাছি থাকে সব মৌমাছি ব্যক্তির স্কন্ধে শূল ফোটাতে পারে না। যে মাছি পারে তাকে মনে রাখে। অর্থ্যাৎ শূল ফোটানোর মতো ব্যাপার। আমরা তো দেখি কোনো কোনো মৌচাক থেকে একটি মৌমাছিও শূল ফোটাতে সক্ষম হয় না। আবার অনেক মৌমাছি কে দেখেছি মৌচাক থেকে সাই সাই করে ছুটে এসে ব্যক্তিদের স্কন্ধে কামড় বসাতে।

আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নটির উত্তর ২০১৩ সালে প্রকাশিত ‘খড়ের কাঠামো’ এবং তৎপরবর্তী যত কবিতা লিখিত হবে সে সব কবিতাই এর উত্তর দিক এবং অপেক্ষায় থাকুক ক্ষমাহীন মহাকালের কষ্ঠিপাথর দিয়ে যাচাইয়ের। তবে এটুকু বলে রাখি, যে সব কবিতা র‌্যাডিক্যাল সঙ্গে সঙ্গে ল্যুক্রেটিভ- শক্ করে (কী ভাষাগত, কী টেকনিকে, উপমায়, বক্রোক্তিতে, বাঁধনে) অভিনব, মগজ উত্তেজিত করার বদ্ধপরিকর, অর্থের পুষ্টিজ্ঞানে গ্রন্থভর্তি ঘাস যাকে চিবোতে চিবোতে জনবৃত্তের চিত্রটা মনের লেন্সে ধরা পড়ে সেসব কবিতার প্রতি আমার একধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ আছে।

তানিম কবির :  তিরিশের দশক থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত— প্রত্যেকটি দশক থেকে যদি তিনজনের নাম করতে বলা হয় আপনাকে— কারা আসবেন? উল্লিখিত কালখণ্ডে কোন দশকটিকে আপনার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়?

তালাশ তালুকদার: তিরিশ থেকে সমসাময়িক দশক পর্যন্ত যদি নামোল্লেখ করতে যাই তাহলে বাজারের লিস্টের মতো ফর্দটা লম্বা হয়ে যাবে। তারচেয়ে পঞ্চাশ থেকে আমার পছন্দের দুই একজন কবির নাম বলা যেতে পারে। হয়তো কোনো কোনো দশকের তিনের অধিক নাম এসে যাবে আবার কোনো দশকের কবির নাম অনুল্লেখ্যই থেকে যাবে। কেন জানি, কবিতা প্রসঙ্গে কিছু কবির নাম উল্লেখ করতেই ডিসপ্রিন খেলে যেমন মাথা ব্যথা সেরে যায় তেমনি কিছু কবির কবিতা পাঠ করা মাত্রই অতৃপ্ততা নামক যে অসুখের সন্ধান পাই তা নিরাময়ে এইসব কবির কবিতাগুলো কামে লাগে। জীবনানন্দ পরবর্তী উৎপলকুমার বসু সে এ্যন্টিবায়োটিকের অন্যতম নাম এবং সোনালী কাবিনের আল মাহমুদ, ফিরে এসো চাকা’র বিনয় মজুমদার। শরৎকুমার মুখোপাধ্যায়, গৌতম চেীধুরী, একরাম আলি, ও মলয় রায়চৌধুরীর এক্সপেরিমেন্টগুলো ভালো লাগে। লেখার সূচনাপর্বেই যার কবিতা বারবার টেনেছে এবং নতুন ফ্লেবারে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল তিনি আর কেউ নন ‘জন্মান্ধকবিতাগুচ্ছ’র কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ। আবিদ আজাদের ‘ঘাসের ঘটনা’র কাব্যগ্রন্থের নামকরণটি অদ্ভুত এক ঘোরগ্রস্ত করে রেখেছিল সঙ্গে কিছু কবিতাও। একেবারে ম্যাডনেস হয়ে লেখা জয় গোস্বামীর কিছু কিছু কবিতাও তো ভাল লাগে। ফাল্গুনি রায়ের ‘নষ্ট আত্মার টেলিভিশন’ ও আহমেদ মুজিব এর ‘শুধু টের পাই আমি’ দু’টি কাব্যগ্রন্থের কথাও মনে র’বে বহুদিন।

আশির দশকের মূল ফটকেই যার নাম তোলা থাকে তিনি হলেন কাজল শাহনেওয়াজ। একেবারেই পুরাতন ফর্ম ভেঙ্গে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পাঠকের সামনে হাজির হয়েছেন। পাঠক অনেকদিন মনে রাখবে তার ‘জলমগ্ন পাঠশালা’, ও ‘রহস্যখোলার রেঞ্চ’ দু’টি কাব্যগ্রন্থের কথা। বাদ যায় না মাসুদ খানও। বলা যায় তিনি বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত হতে চলেছেন বাংলা কবিতায়। সাজ্জাদ শরীফের এলিটিয় ঘরানার কাব্যবোধও আমাকে মুগ্ধ করে। সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত’র মতো সমকালীন সময়ে ছন্দের জাদুকর হিসেবে ক্রমেই পরিচিতি পাচ্ছেন সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ। সক্রিয় কবি হিসেবে জুয়েল মাজহারের নামটাও এসে যায়। নব্বইয়ে এসেও বেশ কিছু সংখ্যক কবির কিছু কিছু কবিতা আমাকে মুগ্ধ করে, তাঁক্ লাগায়।উল্লেখিত কালখন্ডে আমার কাছে ত্রিশের দশককেই বেশি গুর“ত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। এ দশকে বাংলা কবিতা তার অভিভাবকত্বের দেখা পেয়েছিল। তৎসঙ্গে ত্রিশ দশকের উপর অভিসন্দর্ভ রচনা করে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে দেখেছি সামাজিক মর্যাদা বাড়াতে।

তানিম কবির : দেশভাগোত্তর দুই বাংলার কবিতায় মৌলিক কোনও পার্থক্য রচিত হয়েছে কি? এ-বাংলায় ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরতন্ত্রবিরোধী আন্দোলন। ওপার বাংলায়ও নকশালবাড়ি আন্দোলনসহ উল্লেখযোগ্য কিছু রাজনৈতিক পটপরিবর্তন— এসমস্ত কিছুর আলাদা আলাদা প্রভাব কবিতায় কতোটা পড়েছে বলে মনে করেন?

তালাশ তালুকদার: একটি আবাদী জমিকে যদি দুই ভাগে বিভক্ত করে ফসল উৎপাদন করতে বলা হয় তাহলে ঐ খন্ড খন্ড আবাদী জমির ফসল দু রকম উৎপন্ন হয় কি? রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগের ফলে কিছুটা তারতম্য হতে পারে কিন্তু মৌলিক পার্থক্য সূচিত হয় কিনা আমার জানা নেই। তবে হ্যাঁ, ১৯৪৭ থেকে পূর্ব বাঙলা একটি ভিন্ন পথে অগ্রসর হয়েছে। সমাজের ভেতর শ্রেণী গঠন পুনর্গঠনও ঘটেছে নানাভাবে। বাংলাভাষার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় বৈরীতা, ভাষা আন্দোলন, সামরিক শাসন ও তার বিরুদ্ধে আন্দোলন, সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ এবং একটি জাতীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মতো ঘটনাবলী এই অঞ্চলকে প্রভাবিত করেছে যেমন তেমনি ওপার বাংলার নকশালবাড়ী আন্দোলনও নাড়িয়ে দিয়েছে খানিকটা। কিন্তু এসবের সঙ্গে বাংলা কবিতার সম্পর্ক নেগেটিভই বলা যায়। রাজনৈতিক স্পন্দন ধারণ করার মধ্যে দিয়ে খানিকটা লিকুইড কনসোনেন্টকে (তরল ব্যঞ্জন) এসব লুজ কবিতার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখি। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এসব কনটেম্পোরারি ফ্যাক্ট ঘিরে যেসব কবিতা রচিত হলো সেসবই মাচ পিপল আত্মবশে গ্রহণ করল। অথচ বাংলা কবিতার ইতিহাসে যত কবিতা উৎকৃষ্ট আয়নায় নিজের মুখটি দেখেছে সে কবিতাগুলো ম্যাক্সিমামই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত।

তানিম কবির : কবিতার বিরুদ্ধে জনবিচ্ছিন্নতা ও দুর্বোধ্যতার অভিযোগ বিষয়ে কিছু বলুন। কবির কি পাঠকের রুচির সাথে আপোষ করে কবিতা লেখা উচিৎ? বর্তমানে বাংলা কবিতার পাঠক কারা?

তালাশ তালুকদার: আসলে দুর্বোধ্যতার অভিযোগ কারা করছেন এ বিষয়টি আগে খতিয়ে দেখতে হবে। জনবিচ্ছিন্নতা ও দুর্বোধ্যতার অভিযোগ তারাই করে যাদের কবিতার বাক্ বদলের ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় নেই। এ অভিযোগ আর এক শ্রেণীর কবি, সাহিত্যিকরা করে থাকেন তারা হলেন বয়সে প্রবীণ নয়তো লেখায় প্রবীণ। কিংবা এ অভিযোগ তাদের যারা একটি ভালো কবিতা-বিচ্ছেদে আছেন। এর বাইরেও আরেকশ্রেণীর পাঠক (যাদেরকে আমজনতা বলাই শ্রেয়) আছেন যারা পাঠ্যপুস্তকে থাকা ছড়া কিংবা অন্ত্যমিল দেয়া কবিতাগুলোকেই শুধু কবিতা মনে করেন। পাঠ্যপুস্তকের কবিতা কিংবা পাঠ্যপুস্তকের মতো কবিতা লেখা দেখতে না পেয়ে এসব পাঠক দুর্বোধ্যতার অভিযোগ তুলতে পারেন। এসব অভিযোগের বয়সও তো কম হলো না। কনভেনশনাল কবিতার বিপরীতে গা ভাসালেই জনবিচ্ছিন্ন বা দুর্বোধ্যতার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে জনবিচ্ছিন্ন ও দুর্বোধ্য কবিতাই আবার দেখেছি পাঠকদের কাছে বোধ্য হতে।

অবশ্য কবির নিজের মনের অস্পষ্টতায় যে সব অবান্তর কূটত্ব সৃষ্টি করে সেইসব ব্যর্থ কবিতার দিকে চেয়ে যদি আমাদের মনঃপীড়া হয় তাহলে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেই মনে করব। কেননা ওসব কবিতাগুলোকে কবিতা মনে না করে মনে করি খাদ্যের উচ্ছিষ্টাংশ। যে পাঠক দীর্ঘ সময় আন্তরিকতার সাথে কবিতার চর্চা দেখেছে একমাত্র তারই কাছে কবিতা তার সমস্ত সৌন্দর্য উন্মোচিত হয়েছে। তদুপরি বলি, এসব কোনো অভিযোগই ধোপে টিকবে না, যদি লেখা হয় একটি ভালো কবিতা। কেননা, একটি ভালো কবিতার চার্জ কখনো ফুরায় না।

কবিতা তো কবিতা, পাঠকের রুচির সাথে আপোষ করে এক ঢোক পানি গেলাও উচিত না। আমরা জানি, আপোষরফার সাথে একধরণের বিপথগামীতার সূত্রতা থাকে।

মধ্যবিত্ত শিক্ষিত শ্রেণীর কিছুতক উদাসী/ অ-উদাসী অক্ষরপূজকেরা এখন বাংলা কবিতার পাঠক মূলত।

তালাশ তালুকদার
জন্ম: ৮ নভেম্বর ১৯৮৩
জন্মস্থান: বগুড়া, বাংলাদেশ

কবিতা বই: খড়ের কাঠামো, সকল প্রকৃতি জঙ্গলে বসে আছে, টোপার বাইরে পৃথিবী কেমন। 

সম্পাদনা: স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলা কবিতা সংকলন, শূন্য দশকের কবিতা সংকলন। 

সম্পাদক: কীর্তিকলাপ.কম, অব্যয়.নেট (দুটোই ওয়েবম্যাগ)। শূন্যের করতালি (শূন্য দশকের কবিতা সংকলন, ২০১০) 

banglanews24.com এ প্রকাশিত বাংলাদেশ সময়: ১০০০ ঘণ্টা, ২৭ জুন ২০১৩

মন্তব্যসমূহ