লিটলম্যাগের প্রয়োজনীয়তা কেন ফুরিয়ে যাচ্ছে ।। তালাশ তালুকদার

লিটলম্যাগ সম্পর্কে প্রথমেই যে কথাটা বলা দরকার তা হইলো লিটলম্যাগের উদ্ভব ও বিকাশ যেসব কারণে হইছিলো সেসব কিছুর অস্তিত্ব কিংবা প্রয়োজন এখন নাই আর। মানে, লি.ম্যা’র প্রয়োজন আর নাইই বিশেষ। যে কারণে ষাট কিংবা আশির যে সমস্ত লিটলম্যাগের আনাগোনা দেখতে পাওয়া যায় সেগুলার ধারাবাহিকতা পরবর্তীতে দেখা যায় নাই আর। মানে রিলেরেসেও ওমন উত্তাপ বয়ে আনে নাই অন্য কোনো লি.ম্যা তে। অর্থ্যাৎ, লেখকের আইডেন্টিটি প্রকাশে যা কিছুর প্রয়োজন ছিল সেইটা ট্রান্সফার হইছে আদারস মাধ্যমগুলাতে। আদারস মাধ্যম বলতে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম, যথাঃ ভার্চুয়ালে, ব্লগ, ওয়েবসাইট কিংবা বহুলপঠিত বাণিজ্যিক খবরের কাগজগুলোয়। 

একধরনের বদল চায় লিটলীয়রা। সে বদলটা হইতে পারে ভাষাগত, চেতনাগত। খুবই পরিস্কার বিষয় এইটা, মানে, বদল ঘটানো কিংবা পালটে দেয়ার ব্যাপারটা অন্য স্পেইসেও করা সম্ভব। নিরীক্ষাধর্মীতার ব্যাপারেও এই কথাগুলা খাটে। তাইলে লিটলম্যাগের প্রয়োজনীয়তা রইলো কোথায়? সেইম ব্যাপার তো, আদর্শ, সংকট, চর্চা, বাজার দখল, পাঠকের রুচি নিয়াও কওয়া যায়। অর্থ্যাৎ লিটলম্যাগীয় যে লক্ষ্য ও আদর্শ প্রচার করে, -বাজি ধরেও বলা যায় সেইটা অন্য প্লাটফর্মেও সম্ভব, এখন।

পুনরাবৃত্তি একটি শিশুর কাছেও মহাবিরক্তিকরের বিষয়। এই বাক্যটির মর্মউদ্ধার করতে পারে নাই লিটলম্যাগওয়ালারা। যে কারণে এ ট্রেন্ড এ জং ধরা আছে। এইটা খুবই ট্রু যে, আমদানী করা লিটলম্যাগের চারিত্র্য কিংবা গুনাগুনে নিউ ভ্যারিয়েশন যুক্ত না করার দশা এই। পরিণত না হওয়া কিংবা নিউ জেনারেশনের বালখিল্যতার ভেতর যা ভ্যারিয়েশনের নতুনত্ব কিংবা নতুন সৃজনশীলতা বলতে যা বোঝায় সেইটার অনুপস্থিতিও থাকেও বেশি। শুধু আত্মামুক্ত কিংবা তারুণ্যের উন্মাদনা থাকাটাই নতুন ক্রিয়েটিভিটি না। এই অভাবটাই প্রকটাকারে উপস্থিত হয় লিটলীয় ফিল্ডে। মানে, লিটলম্যাগ বলতে অনুকরণপ্রিয়তাই বুঝে থাকলো অনেকে। অর্থ্যাৎ সুবিমল মিশ্রের এন্টি এস্টাবলিস্টমেন্টটাই প্রতিষ্ঠা করার জন্য উঠে পড়ে লাগলো অনেক তরুণ। কিন্তু ঐ চেতনাটা শুধুই আমদানীকারক চেতনা এই জিনিসটাও বুঝে উঠতে পারলো না। ফলে, নিজস্বতা বলতে যা বোঝায় সেইটাও রইলো না কাগজে। অর্থ্যাৎ, স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের যে যে উপাদানগুলি ইনক্লুডেড হওয়া জরুরি ছিল সেগুলা হাইডই থেকে গেল। মানে, পশ্চিমা ভূ’তেই সূর্য উদিত হইলো। ফলে ওয়েস্টার্ণ কালচারীয় চেতনাটা নিয়াই লিটলম্যাগীয় চেতনাজীবিরা চেতাচেতি করা শুরু করলো। পরবর্তীতে যা হবার তাই যোগ হইছে। আইডেন্টি ক্রাইসিস নিয়াই লিটলম্যাগ দমবন্ধ অবস্থায় দাঁড়ায়া থাকছে শিয়রে!

লিটলম্যাগ একপ্রকারের পণ্য। কিন্তু সে পণ্য এখন মূল্যহীন, অচল মুদ্রা। লিটলম্যাগের চিন্তা করা মানে তার বিকাশ ও লক্ষ্য প্রচার করা আর ডাকসাইটের নেতা হওয়া একই কথা। যার রাষ্ট্র আছে কিন্তু জনসম্পৃক্ততা নাই।


মন্তব্যসমূহ