বড়লোকদের প্রজেক্ট; বইপড়া- বইলেখা।। তালাশ তালুকদার

বড়লোকেরা যেহেতু বইপড়াকে বিনোদন হিসেবে ভাবে সেইহেতু বলা যায় বইপড়া বড়লোকদেরই প্রজেক্ট। যারা বড়লোক তারা বই পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। 

কিন্তু গরীবেরা কেন পড়বে? গরীবদের তো ক্ষুধার জ্বালায় পেট চোঁ চোঁ করে। তারা সারাদিন ধরে বই পড়লে তাদের সময় তো বইপড়ার পিছনেই চলে যাবে। তাহলে সে আয় রোজগার করবে কিভাবে? সংসার কিংবা পেটের ক্ষুধা নিবারণ করবে কিভাবে? বোঝা জরুরি, জীবনধারণ আগে নাকি মনোরঞ্জন আগে?

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদেরা বড়লোক। যেকারণে তাদের হাতে সবসময় বইপড়ার প্রজেক্ট থাকে। নিজেও স্থাপন করেছেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। এই বিশ্বসাহিত্য দিয়ে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদেরা তার ব্যবসা সাড়ে। এদেশের এরকম আরো অনেক বইপড়ার ফেরিওয়ালা আছে। তাদের উদ্দেশ্য যতটা না তার চাইতে তাদের ব্যবসাই মূল উদ্দেশ্য বলে বিবেচিত থাকে।  বড়লোকদের পাশাপাশি অনেক গরীবদেরও দেখা যায় বইপড়ার বার্তা নিয়ে হাজির হতে। যেকারণে দেখা যাবে এই দেশে অনেক পাঠাগার তৈরি হতে। এদের উদ্দেশ্যও ঐ একই। ব্যবসা করা। মাল কামানো। পাঠাগারের নামে সরকারী, বেসরকারী বিভিন্ন প্রজেক্ট হাতিয়ে নিয়ে পকেট ভারি করা। বড়লোকদের চাইতে এরা আরো ভয়ংকর। এরাই সত্যিকারের স্ট্যান্টবাজ। দেশ ও জাতিকে বই পড়ানোর নাম করে নিজেরা লুটেপুটে খেতে এসেছে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বড়লোকেরা বইপড়াটাকে চাপিয়ে দেয়। এই চাপিয়ে দেওয়াটাও অন্যায়, একধরণের রেসিজম। তাতে ব্যক্তি স্বাধীনতা থাকেনা। বইপড়া না পড়াটা অসভ্যতা না। বরং বইপড়ার মূল্য না দিতে জানলে সেটাই বরং সভ্য না হয়ে উঠার লক্ষণ। ইভেন, একটা গবেষনায় দেখা গেছে, বইপড়াওয়ালারা গরীববান্ধব সমাজের লোক নয়। এরা বড়লোকদেরই লোক। বড়লোকদের বিভিন্ন পারপার্স সার্ভ করে এরা। 


টাকার বিনিময়ে যারা লেখে তারা অগুরুত্বপূর্ণ, অল্প গুরুত্বপূর্ণ। তারা মনেই করে যে, যত লেখা উৎপাদন করা যাবে ততো প্রফিট হবে। লেখাতে টাকা ইনভেস্ট করা লাগেনা তাই পুরাটাই প্রফিট হয়। এইখানে ইনভেস্ট মানে, আপনার বুদ্ধি ও মগজের ব্যবহার করা লাগে। ফলে, যা উৎপাদন হয় তা পুরাই লভ্যাংশ আকারে বিবেচিত হয়।

কিন্তু এই লেখাতে কি থাকে?

যেহেতু লেখাগুলাকে ফুঁলে ফেঁপে বড় করা হয় সেহেতু ফাঁপাফাঁপির ব্যাপারই থাকে। এই বড় লেখা পড়তে যেয়ে পাঠকেরা যে টাইম ব্যয় করতেছে তা দিয়ে পাঠকশ্রেনী তো আরেক জায়গায় অর্থ আয় করতে পারতো। যেহেতু তারা তা পারতেছেনা। মানে, পড়ার জন্য হিউজ টাইম দিতেছে বই পড়তে। তার মানে আপনি পাঠককে আরো গরীব করে রাখতে তার সময়গুলোকে খেয়ে ফেলতেছেন।

এরকম প্রজেক্টের লেখকেরা কারা? যারা পাঠকদের সময় খায় এবং সে খাওয়ার ভেতরে পাঠকেরা কোনো ফিডব্যাক পায়না। সেই লেখকদের তালিকা করলে হালের ইমদাদুল হক মিলন, আনিসুল হক, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, কাসেম বিন আবু বক্কর, হূমায়ুন আহমেদ পড়ে যায়। সেই অর্থে এইসব লেখকেরা শোষকশ্রেণীর দলভুক্ত। এরা পাঠকের টাইম চুষে খেয়ে নিজেরা বড়লোক হয় আর পাঠকদের গরীব করে রাখে। ইস্ট ইন্ডিয়ার নীতিতে চলে এইসব লেখক।

যেসব লেখকরা টাকার জন্য লেখে তারা বড় বড় রচনা ফাঁদে। যেহেতু তারা বেশি বেশি লেখে তাই তারা বেশি বেশি টাকা কামাই করে। তাদের উদ্দেশ্য পরিস্কার, সস্তা জনপ্রিয় পাওয়া এবং সস্তা ইমেজ কাজে লাগিয়ে ইনকামের পথ পরিস্কার করা। একারণে ছোট লেখা পড়ুন। নিজের টাইম বাঁচান। নিজের টাইম বাঁচলে নিজেও বাঁচবেন। যেহেতু ঐ টাইম লেখককে না দিয়ে নিজের অর্থ উপার্জনে কাজে লাগাতে পারবেন।


মন্তব্যসমূহ