হিরো আলমরা যে কারণে জরুরি।। তালাশ তালুকদার
অনেকেই অভিযোগ করে যে, হিরো আলমের রুচি ভাল নয়। এই অভিযোগ যারা করে তারা কিসের ভিত্তিতে করে?
নিজের রুচির উপর নির্ভর করে অন্যের রুচিকে পরিমাপ করার চাইতে একটা রাষ্ট্রের জনগোষ্ঠির রুচিকে বিচার বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে তার যথার্থ্যতা।
যে দেশের এক তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠি হিরো আলমের রুচির সাথে যায় অর্থ্যাৎ মানিয়ে যায় সে রুচিকে আপনার সমীহ করা জরুরি কাজ। এটা যদি না করেন তাহলে বোঝা যাইবে বৃহত্তর গোষ্ঠির সাথে আপনি নাই। আপনি ডিটাচ সমাজ থেকে।
শিল্পে সবসময় বৃহত্তর সমাজের জিনিসই হাজির থাকে। হিরো আলম ঐ বৃহত্তর সমাজটাকেই প্রেজেন্ট করে। হিরো আলম ঐ বৃহত্তর সমাজের রুচি, অনুভূতির গান গায়। যে সমাজটা এক তৃতীয়াংশ মানুষের। ফলে, হিরো আলমরা বহু বাধা পেরিয়েও সমাজের প্রতিনিধি হয়ে উঠতে পারে।
আপনি যদি তা না মানেন তাহলে অতি সহজেই বোঝা যায়, আপনি বুর্জোয়ার সমাজের দালাল নয়তো বুর্জোয়ার আসন অলংকৃত করে বসে আছেন।
যারা বুর্জোয়ার আসনে বসে আছেন তারা এ বৃহত্তর সমাজকে দেখেও দেখবেনা। এবং এই সমাজ বরাবরই এ বৃহত্তর সমাজকে এভোয়েড করবে এবং অস্বীকৃতির মোড়কে নিজেদের বস্তাবন্দি করে রাখবে। কিন্তু যারা এই বৃহত্তর সমাজের অংশ হয়েও হিরো আলমদের অস্বীকার করেন কিংবা করতে চান তারা মূলত বুর্জোয়া সমাজের দালালীই করতে আসেন। তখন আপনি আর আপনি থাকেন না, আপনার দালালী মুখটা আয়নার সামনে জ¦লজ¦ল করে চেয়ে থাকে। সে চেহারাটা খুবই করুণ। আত্মবর্জিত।
আপনি যখন ফুটপাতে বসে পাঁচ টাকা দামের চা খেয়ে নিজেকে মিলাইতে চান ওয়েস্টিন, শেরাটনে ডিনার করণেওয়ালাদের সাথে। তখন আপনাদের এই রুচি, বড়লোকগিরির চেহারাটা আরো মলিন হয়ে উঠে আমাদের সামনে। হিরো আলমরা এই মেকি, মিথ্যা জীবনের বিপরীতে সত্যকে অর্থ্যাৎ আপনি যা সে জীবনই যাপন করে যাচ্ছে। এই সত্যরে রেস্পেক্ট করা উচিত। যদি তা না করেন তাহলে কি নিজের কাছে নিজেকেই অস্বীকার হইতেছে না?
আপনার মিথ্যা মেকি, দালালীপনা জীবনের অপজিটে অনেক গুরুত্বপূর্ণ-বৈভবপূর্ণ জীবন যাপন করে হিরো আলমরা। এই জীবনযাপন সবাই করতে পারেনা। আর এখানেই যত কন্ট্রাডিকশন জমা হতে থাকে হিরো আলমের হিরোইজমের বিরোধীতাকারীদের।
বাংলাদেশের ম্যাক্সিমাম মানুষেরাই উপনিবেশিক দাসত্বে মুগ্ধ থাকে। হিরো আলমদের বিরোধীতার এটাও একটা কারণ থাকতে পারে। এদেশের মানুষের কাছে কোর্ট টাই পরা মানুষদেরকেই বেশি পছন্দ করে। যেমনটি, কালো মানুষদের তুলনায় সাদা মানুষদেরকেই এরা পছন্দ করে এবং সুসভ্যও মনে করে। মনে করে, এরাই সমাজের অগ্রগন্য ব্যক্তি। কিন্তু এটা যে, তাদের চিন্তার দৈন্যতা কিংবা দাসত্বতা তা তারা বুঝতেই পারেনা। কিন্তু হিরো আলমদের মগজ উপনিবেশিক মগজে বন্দি নয়। তারা স্বাধীন, আরোপিত নয়। তাদের আইডেন্টিটি আছে। তারা র কে র বলার ক্ষমতা রাখে। একারণে হিরো আলমরা খুবই জরুরি এ সমাজে।



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন