নজরুলের দর্শনের জায়গা ।। তালাশ তালুকদার
অসাম্প্রদায়িক চর্চার মানে এইটা না যে, মুসলমানদের হিন্দুয়ানি কালচার আর হিন্দুদের মুসলমানের কালচার ধারণ করতে হবে। বরং মুসলমানেরা মুসলনানের কালচার আর হিন্দুরা হিন্দুয়ানি কালচারের ভিতরে শক্তপোক্তভাবে থাকতে পারাটাই অসাম্প্রাদায়িকতা। অর্থ্যাৎ, যার যার ধর্মে স্টিক থাকাটাই অসাম্প্রদায়িকতা। কাজী নজরুল ইসলাম ঠিক এ জায়গাটাতেই থেকেছে। উনি দুই ধর্মকে একত্রে মেলানোর চেষ্টা করেন নাই। ফলে, কাজী নজরুল ইসলামরে ভুল বুঝার সুযোগ নাই। একজন সেক্যুলারের নীতি আদর্শ যা তা নজরুলের চর্চার ভিতর দিয়ে চূড়ান্ত পরিণতি পায়।
নজরুল বিষয়ে অনেকের আক্ষেপের জায়গাটা হইলো যে, উনি বাঙালী মুসলমান হইয়াও কেন শ্যামা সঙ্গীত রচনা করলেন। মানে, মুসলমান হয়ে তো মুসলমানেরই কৃষ্টি কালচারের কথা বলা দরকার। তিনি তা করলেন না কেন? যেমন, রবীন্দ্রনাথ তার ভক্তদের হ্যাপী করে গেছেন একটা মুসলমান ক্যারেক্টারও না তৈরি করার ভিতর দিয়ে।
নজরুল এইখানেই আলাদা। মানুষই আগে। মানুষ না থাকলে ধর্ম থাকেনা। ফলে, বাঙালী মুসলমানেরা নজরুলের আইডেন্টিটি নিয়ে প্রশ্ন তোলেই। কেননা, তারা ধর্মের ভিতর দিয়ে মানুষ দেখে। কিন্তু নজরুল ইসলাম মানুষের ভিতর দিয়ে ধর্মকে দেখেছে। নজরুলের এই উদারনীতিকরণ ও সার্বজনীনবাদের কারণে বাঙালী মুসলমানরা এখনো নজরুলকে ভাল চোখে দেখে না যতোটা বাঙালী হিন্দুরা দেখে। অথচ বাঙালী মুসলমানদেরই বেশি প্রাউড ফিল করার কথা ছিল বাঙালী মুসলমান হয়ে সার্বজনীন হয়ে উঠার জন্য। কিন্তু তা হয় নাই। ফলে, সাধারণ লোকেরা মনে করে, কাজী নজরুল ইসলামকে ডানপন্থী মতাদর্শকারীদের চাইতে বামপন্থীর লোকেরাই ভালবাসা দিয়েছে বেশি।



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন