বর্ণবাদের ভায়োলেন্স ।। তালাশ তালুকদার
বর্ণবাদ সমাজ-রাষ্ট্রের প্রতি রন্ধ্রে রন্ধ্রে। কালো মানুষেরা যাতে সফলতার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে না পারে এর পেছনে সাদা মানুষদের সম্মীলিত সূক্ষ্ম রাজনীতি থাকে। এবং তারা মনে করে এটা তাদের জাতিগত অধিকার। যদি সাদাদের ক্ষেত্রে তাই হয়, মানে, রেস পলিটিক্স এন্ড হোয়াইট প্রিভিলেইজ মনে করে লড়াই চালিয়ে যায় তাহলে তো কালোদের ক্ষেত্রেও একই কথাই খাটে। কিন্তু কালোদের ক্ষেত্রে তা হয়না। না হওয়ার পেছনে সাদাদের অপরাজনীতি কাজ করে। যেহেতু পূর্ব থেকেই সংখ্যাগরিষ্টতার ভিত্তিতে সাদারাই এগিয়ে থাকে সোসাইটিতে। ফলে, ক্ষমতাকাঠামোর দড়ি তাদের হাতেই থাকে। একারণে সাদারা ইচ্ছামত অনধিকার চর্চার সুযোগ পায়। ফলে, শ্রেণী এবং জাতিচর্চার নামে সাদারা যা করে থাকে তা করার ভেতর দিয়ে তারা ফ্যাসিস্ট আচরণই করে থাকে। এটা করে সাধারণতঃ পাওয়ার হোল্ড করার জন্য। এই টুলটা যদি হাতে থাকে তাহলে একচেটিয়াভাবে সব কায়েম করা যায়। যেহেতু পাওয়ারের সাথে ইকোনমি এবং কালচারের সম্পর্ক থাকে সেহেতু নিজস্ব জাতিগত ধারনা বিকাশে দারুণ কাজ করে।
সোসাইটিতে নিজেদের শ্রেষ্ট, সভ্য করে তুলতে এই কলোনিয়াল ডিভাইসগুলা বেশ দরকারি মনে করে তারা। মানে, এর মাধ্যমে শোষণ, শাসন এবং অবদমন করে জাতিগত স্বার্থ হাসিল করা হয় এবং সমাজের চোখে কালোদের অসভ্য, নিকৃষ্ট, এবং নিম্নরূপে হাজির করা যায়।
সোসাইটিতে যখন কালোরা এই প্রতিরোধ পর্ব শুরু করে, মানে সাদাদের অপরাজনীতির দমন পীড়নের বিরুদ্ধে সজাগ হয় এবং লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যায় তখন সোসাইটিতে নৈরাজ্যবাদের পরিবেশ তৈয়ার হয়। আর এর পেছনে সাদারাই দায়ী থাকে। সোসাইটির এই নৈরাজ্য পরিস্থিতির জন্য আবার কালোদেরকেই অভিযুক্ত হতে হয়। মানে, বর্ণবাদের ভায়োলেন্স নানা বৈশিষ্ট্যে হাজির থাকে সোসাইটিতে। একারণে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের মত অনেক আন্দোলন তৈরি হয়েছে সোসাইটিতে। ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনে দেখা যায়, সাদারাও কালোদের পক্ষালম্বন করে কিন্তু এই পক্ষালম্বনের ভিতরে সাদাদের দুরভিসন্ধি থাকে। থাকে -এনজিও কায়েমি স্বার্থ প্রতিষ্ঠা করার স্বার্থ। আর এইটা না বুঝেই যারা সামিল হয় তারা মূলত অজ্ঞ নয়তো তাদেরও একধরণের স্বার্থ আছে আর তা হইলো, সোসাইটিতে কালোদের আরো কালো রূপে প্রতিষ্ঠা করার স্বার্থ। মানে জাতিভেদ তৈয়ার করবার দুরভিসন্ধি চিন্তা এইগুলা।
বর্ণবাদের ভায়োলেন্সটাকে আরো সূক্ষ্ম চিন্তার ভেতর দিয়ে কিভাবে সোসাইটিতে ছড়িয়ে দেওয়া যায় তার আরেকটি নমুনা হইলো একজন ফর্সা মানুষের গায়ের রঙ কালো করার জন্য ক্রিম ব্যবহারের উদ্ভুদ্ধ করা। মানে এ কাজগুলা করার জন্য যারা স্পন্সর করে প্রকারান্তরে তারা হিপোক্রেসিই করে। কেননা, এইটা তো, ট্রুথ যে, কোনো ফর্সা চামড়ার মানুষ কখনোই তার গায়ের রঙ কালো করার জন্য ক্রিম লাগায় না। এই প্রতিষ্ঠিত সত্যধারণাকে আরো পাকাপোক্ত করার বাসনা থেকেই হাতে নেয়া হয় এই প্রজেক্টগুলা।
এই বর্ণবাদ জিনিসটা মনের ভেতরে এতোই সুপ্ত ও সক্রিয় থাকে যে তা সহজে মুছে যাবার নয়। মানে, যেহেতু এই শিক্ষাটা শিশুরা পারিবারিক শিক্ষা থেকেই পেয়ে থাকে। ফলে, সাইকোলজিক্যালই একধরনের চর্চা গ্রো করতে থাকে স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি কিংবা পরবর্তী লাইফে। ফলে, বর্ণবাদ তার বর্ণবাদী কার্যক্রম প্রকাশ পাইতেই থাকে বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপের ভেতরে দিয়ে।



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন