হিস্টোরিক্যালি পহেলা বৈশাখের সাথে অর্থনীতির যোগসূত্রতা ।। তালাশ তালুকদার


পহেলা বৈশাখের হিস্টোরির দিকে তাকালে এমন রূপই প্রস্ফুটিত হয়। সেইটা শুরু থেকে আজ অবধি বহমান। অবশ্য এর মাঝে কিছু কিছু সময় পলিটিক্যাল কিংবা কালচারাল বিষয়গুলো সামনে এসেছে নিজস্ব জাতিগত স্বার্থের কারণে। কিন্তু এর ভিতরেও প্রকটভাবে ঐ অর্থনৈতিক কায়কারবারের ব্যাপারই লক্ষ্য করা যায়। 

সম্রাট আকবরের সময়কালই ধরুণ, সে সময়কালে পহেলা বৈশাখ পালন করা হয়েছিল মূলত খাজনা আদায়ের লক্ষ্যেই। প্রজারা সারাবছরের খাজনা পরিশোধ করতো এই পহেলা বৈশাখেই। শশাঙ্কের আমলেও সেই একই কথা। 

এখনকার সময়গুলোতেও চোখ মেললে দেখা যাবে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান যতোটা না কালচারাল তার চাইতে বেশি অর্থনীতি নির্ভর হয়ে পড়েছে। লোকাল থেকে শুরু করে ন্যাশনাল পর্যন্ত সব জায়গাতেই নিজদের ব্যবসায়িক কারণে পহেলা বৈশাখটা নিয়ন্ত্রণ করছে কর্পোরেটরা।  

যে যে কর্মসূচী দিয়ে লাভবান হওয়া যাবে সে রকম কর্মসূচী দিয়ে পহেলা বৈশাখের উৎসব পালন করে ব্যবসায়িকেরা। যেকারণে দেখবেন, সময়ের পরিবর্তনে পহেলা বৈশাখও তার রূপ পাল্টাচ্ছে। আগে পান্তাভাতের সাথে কাচামরিচ, পেঁয়াজ ব্যবহার হতো এখন সেখানে যোগ হয়েছে ইলিশ। পোষাকে পরিচ্ছদেও এসেছে বাহারী মাত্রা। উৎসবকে কেন্দ্র করে সূচীত হয়েছে নানামুখী বুর্জোয়া রঙ। 

অর্থ্যাৎ গ্রামের কৃষক শ্রমিকদের বাদ দিয়ে পহেলা বৈশাখকে ধীরে ধীরে শহুরে বাবুদের উৎসব হিসেবে তোলা হচ্ছে। একারণে দেখা যাবে পহেলা বৈশাখ তার স্বকীয়তাও হারাচ্ছে। আর এটা হচ্ছে বণিক শ্রেণীর অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশাতেই।




মন্তব্যসমূহ