টোপার বাইরে পৃথিবী কেমন থেকে ১৫ টি কবিতা










বন্ধু

তোমাকে পান্তাভাত মনে করি
তাই সমুদ্রের প্রবল ঘূর্ণির ভেতরেও 
নিজেকে ছেড়ে দিয়ে হাসি

তোমাকে তেলানি দিয়ে রানতে চাইনা
তাতে অনেক তেলের দরকার পড়বে

তোমাকে খাওয়ার উপযোগী করে 
তুলতেও চাইনা 
তুমি অনেক টেস্টি হলে 
তোমাকে শুধু খেতেই হবে
বেশি খেতে খেতে হয়তো 
গলাধাক্কাও খাওয়া লাগতে পারে!

তুমি দুর্লভ; তাই 
তোমাকে ছেড়ে দিয়েছি খাঁচার ভিতরে
তুমি সুলভ হলে 
মুখের সামনেই তো হাসাহাসি করতে
তোমাকে এক চুটকিতেই 
দূরে সরে দিতে চাই
কেননা পাখিরা নিজেরাই 
একদিন পাখনা মেলে দূরে চলে যায়

তুমি আদৌ নও প্রতিদিন
বৃষ্টির ফোটা কি রঙ্গীন?


আমার খবর

সেই যে ধাবাড় মেরে পাঠিয়ে দিলা জঙ্গলে
তারপর থেকে নিজেই পালতেছি নিজেকে

ভাবছিলাম, আমার জন্য কেউ না কেউ 
বুকের পাটা দেখাবে
কিন্তু বুক নয়
পায়ের তলা দেখালে

আমি চিৎপটাং হয়ে উলঙ্গ আল্লাহকে ডাকতেছি
কিন্তু সে অনেক দূরে আরেক মেশিন নিয়ে ব্যস্ত আছে

আমার কথাগুলো অকর্মন্য মনে হচ্ছে
তাই সবাই টুকি দিয়ে আউলে চলে যাচ্ছে

আমার খবর নাই
নাই খবর দিয়ে এখন আমি সংসার চালাই
তোমার সংসারের ভাবাবেগ দিয়ে
আমাকে নিশ্চয় বুঝিবে, ছাই!
 
পাতিলের কান্দার মত আমাকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে
অথচ টেনে তোলার জন্য কারো হাত দেখা যাচ্ছে না

এ নিয়ে কারো বাঁশিতে যে ঝগড়া সুর তুলবো 
তারও ফুরসৎ নাই
যেহেতু আমার চোয়ালেরই জোর নাই

ফলে আমাকে বড় বড় আলুর পাশে 
কাই কাই আলু হয়ে প্রতিদিনই ঝাঁই মেরে থাকতে হচ্ছে!


আমার কাজ

আজ সারাদিন হাইওয়ে রোডের উপর দিয়ে 
বাইক চালিয়ে মশার মতো এলাম
একটা মরা মৌমাছির শুকনো কন্ঠনালি 
রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখলাম।

তোমার স্তন দু’টোতে কাঠের রুল দিয়ে টোকা মারার মতো
অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেরে নিলাম আজ-
গ্রামের বউ-ঝি’দের কাঁথাতে ফুল তোলার কাজ দেখে এলাম
পেটকাটা গাছেদের রক্ত চুঁয়ে পড়া দেখলাম
রক্ততৃষ্ণায় বড় হতে থাকা পাড়ার মাস্তানদেরও দেখা গেলো
রাম দা’য়ে কুপিয়ে কুপিয়ে ভাগ করছে একটা বাচ্চা পেয়ারাকে!

আমি অনেক কিছু দেখি, আমার অনেক কিছু দেখার আছে
এই যেমন, সেদিন পাহাড় থেকে নিঁচুতে নামতে নামতে 
এরকম অনেক কথা বলার আছে ফুল, পাখি ও পশুসমাজ নিয়ে।
শার্টের ভেতর বাতাস ঢুকাতে পারলে না-

সিগারেটের ধোঁয়ার মতোন বায়ুর ঘূর্নিতে
ধূলোগুলা ঘুরতে ঘুরতে উঠে গেলো উপরে
সেকথা বলার জন্য আমি হাত তুলে দাঁড়াবো না কেনো? 


আমাদের দিনগুলো

আমরা বন্ধুরা একসেট গ্লাসের মতোন 
শোকেসে ছিলাম সেঁজেগুঁজে
যখন বেরোতাম তখন মাথার চুলগুলো 
খাঁড়া খাঁড়া আঁকা ছিলো
সিনাওয়ালা ছেলেদের পাড়ার মেয়েগুলো 
যে যার চয়েসমতো দেখে নিতো
আমারটাও দেখে নিয়ে মনের খায়েশ মেটাতো!

জামাকাপড়গুলো গতদিনের মতো পুরোনো হলো
পিঁপড়েগুলো জলগাছের কোমড় ধরে 
সরসর করে নেমে এলো পথে 
প্রাণ ভরে খেলো আমার কিছু প্রাণ!

যেই হাতলওয়ালা হাতটি একে একে ডাকতে শুরু করলো:
কেউ কাদা ঘেঁটে লবণ আনতে গেলো
রোদেপোড়া বেগুনটাকে আবার পুড়তে দিলো কেউ
স্যাকারিন খেয়ে খেয়ে হাল্কা হলো অনেকে!

আমাদের দিনগুলো তুলোর মতো ভাসছে, বেদম বাতাসে-
আমাদের পিকনিকের মাংসগুলোও যেমন
হাঁড়িতে ভাসছিলো, একত্রে, বহু জিনিসের সাথে।


আমাদের সংসার

আমাদের সংসার জোড়াতালি দেয়া
যেনোবা মিনিবাসের ফাটা লুকিং গ্লাস-
এখানে ওখানে স্কচটেপ লাগিয়ে 
লাইফ সাপোর্ট নিয়ে বেঁচেবর্তে আছে কোনোমতো-
অথবা পুডিং মারা টিনের চাল
ক্রমাগত ঝড়, রৌদ্রতাপ সইতে 
পাঁজর মেলে বসে থাকে।

নীলচাষের মতো আমাদেরও সংসার 
বিভিন্ন এনজিও সমিতির লোকেদের 
চা জ্বাল করে খাওয়ানোর জন্য
আমাদের হাড়হাড্ডিগুলোই চারকোল হয়ে গেছে।


তোমাকে বোঝাতে চাই

আমার কোনো কথাই তুমি গায়ে মাখাইতেছো না- 
কেয়ারই করছো না তুমি আমাকে 
আমি যে বাঘের বন্ধু, হাতি আমার নাম সেকথাও বিশ্বাস করতে চাইছো না-
ভাগবাটোয়ারা ঠিক মতো না পেলে আমিও যে প্রতিরাতে শেয়াল হয়ে 
হুক্কাহুয়া করে চিল্লাতে চিল্লাতে এ পাড়া ওপাড়া মাথায় তুলি 
সে কথাও মনে হচ্ছে তোমার কানের পাশ দিয়েই গেল

গরম কড়াইয়ে ঠান্ডা পানি পড়ার মতো উল্টা তুমি ছ্যাঁত করে উঠতেছো   
তুমি কানের পানি কানের কাছে রাখতেছো না 

ভ্রুক্ষেপই করছোনা তুমি- তোমার পাশে যে কেউ দাঁড়ায়ে আছে
তুমি নিশ্চিন্ত মনে সিগনেচার করতেছো অন্যান্য ফ্ল্যাট পাওয়াদের চেক বইয়ে

তোমাকে রাজি করানোর জন্য নানান রকমের ফন্দি আমি আঁটি
তোমার গায়ের চামড়া গায়ে দিয়েও যাই তোমার অফিসে 
কিন্তু তারা আমার ঐ কথাগুলোকে উদ্বিগ্ন অবস্থায় না রেখে 
মনের সুখে নীন পাড়াতে থাকে। 

কি করবো আমি? কাইজ্জা করবো নাকি?
তোমাকে ডাকলেও তো তুমি সাড়া দিচ্ছো না 
মনে হচ্ছে তোমার কান দুটিকে তুমি চিলের কাছে আধি দিয়ে রেখেছো

তাই তুমি তাকাও না এদিকে
তুমি তাকাও নাকি শুধু ভরা পেটের দিকে!


আমার প্রস্তাবের ভেতরে তুমিই ছিলা 

আমার চাওয়ামতোই তুমি ছিলা; একেবারেই গোলগাল লাচুড়লুচুর করা মেয়েটা 
তুমি চুষতে পারতে, চুষে সারারাত সাবাড় করে দিতে পারতে-
তোমার চাওয়ামতোই হয়তো আমিও ছিলাম তোমার ললিপপ

তুমি স্যাটিসফাই হয়ে নিজেই নিজেকে ধন্যবাদ জানাইতে পারতা
বলতা, থ্যাংকস গড, তোমার পানিতে আমারে পুরাপুরি চুবাইয়া দিতে পারছো

তোমাকে বলেছিলাম, কান খাড়া করে রেখো 
বাতাসের ভেতর দিয়ে কোনো সংবাদ পাওয়া মাত্রই আমায় তুমি জানাইয়ো 

একটা টাইপের জায়গায় আরেকটা অক্ষর টাইপ হইতে পারে
একারণে খেয়াল করো, প্রুভরিডার আমিই ছিলাম. তোমার সামনেই দাঁড়ানো ছিলো

সম্ভবত তুমি পরম করুণাময়ের নামে আরম্ভ করতে পারো নাই 
ফলে আলোদিনে আরেক আলোকে দেখতে পারো নাই

তুমি তোমার ইচ্ছেটাকেই গলাটিপে মেরে ফেললে 
সঙ্গে আমার ইচ্ছেটাও তোমার মরে যাওয়া ইচ্ছেটার সাথে মরে গেলো

ভাটি অঞ্চল বলে ভাঞ্জি পড়লো
পোড়ামুখ বলে পুড়ে দিলে আমার হৃদয়ও!


আমার উপরে উঠা

আমাকে একেবারেই তলে থেকে উপরে উঠতে হচ্ছে
একারণে আমার সাথে সবারই দেখা হয়ে যাচ্ছে
সবারই কিছু না কিছু কূটকৌশল থাকে 
তাদেরকেও দুই হাতে সামলাতে হচ্ছে

তারা খুবই বদমেজাজী, একটু উনিশ বিশ হলেই
আবার কাত করে আমায় তলায় ফেলে দিতে পারে
ফলে, তাদের রাগাই না
কারো কানের কাছে কোনোকিছু সাগাইও না 

একটা সিস্টেমের ভেতর দিয়ে সিস্টেম হয়ে থাকি
মোরগ ডাকলে ভাবি ভোর হয়ে গেছে
রাস্তায় বেরুলে কেউ পিছুডাক দিলে ভাবি আজ অলক্ষুনে দিন
কোথাও কোনো কাজ আজ সাকসেসের মুখ দেখবেনা

আমার অনেকগুলো আমি হারিয়ে ফেলার পরও
আমার আমি যখন একটু একটু করে উপরে উঠতে থাকে
তখন আমার পরিবারের মনগুলোও ফুরফুর করে হাওয়ায় উড়তে থাকে 
বলে যাক, এবার অন্তত নিজের পায়ে নিজে দাঁড়িয়েছে
কেউ আলাব্বো দিয়ে আবার সাবধান করে বলতেও থাকে
আমাদের এক্ষুনি বিজয়ের গান গাওয়া ঠিক হবেনা 
ওর গোড়া আরো শক্ত হোক
আবার পাও হসকে গেলে 
জিহ্বায় কামড় খাওয়া লাগবেহিনি!


যদি জানতাম

যদি জানতাম তোমার হাত ধরলে পিছলে পড়ার সম্ভাবনা আছে
তাহলে আরেকদিকে আরেকজনের হাত ধরে ফিল্ডিং মারতে যাইতাম
তোমাকে বুড়ো আঙুল দেখাইতাম
-তুমি চুষতে!

শুধু শুধু মন ভরানোর জন্য কোনো কালেই যাইতে চাই নাই তোমার কাছে
আমি গোরো হবো এই আশা করেই 
গরম ভাতে পানি দিয়েছি

তোমার কাছে যাতে যাইতে না পারি
সে জন্য কেউ আমাকে বেড়েবেড়ি দিয়ে ধরবে
সেরকম লোকও দেখি নাই আশেপাশে

লোকটিস খেলার জন্য আমি এখন চাঁন্দের দেশোত যাইয়া 
একা একাই হাঁচাই পিটাচ্ছি

তুমি আমাকে উছোল মেরে 
বুড়িগঙ্গাতেও ডুবাও আবার দেখছি করতোয়াতেও চুবর খাওয়াও

এখনো মাঝেসাঝেই তোমাকে টোকা দিয়ে দেখি
তুমি পাঁকো নাই কাঁচাই আছো

খুব জোরে মুক্টি মারছো আমার কপাল জুড়ে
আমি ফেটে- চৈত্র্য মাসের মাটির মতো হা হয়ে আছি

আমার জিঁউ উড়ে যাচ্ছে
তুমি ধরছো না
তোমার মনের নাগাল আমি ছাড়া সবাই ঠিকঠাক মতোই পাচ্ছে!


টানাপোড়েন

বিভিন্নভাবে মেঘের ঢল দেখা শুরু করলে
বাজারফেরতা লোক হিসেবে 
একজন দোকানদারকে তো দেখেই ফেললে
একটা জ্যান্ত আনারসকে ঘাড় ধরে ব্যাগে ঢোকাতে!

কিছু যুবককে দেখলে পাহাড়ের গা থেকে
মাংস ছাঁটাতে ছাঁটাতে 
সমতলভূমিতে বিছিয়ে দিলো পাহাড়কে!

চারদিকে ফাঁকা আওয়াজ হচ্ছে
হাওয়া তার গলায় দড়ি দিচ্ছে 
পেটের ভেতর খাই খাই করছে কৃমিগুলো
কাঁধে টিউমারের মতো ফলগুলো নিয়ে 
ঘোরাফেরা করছে বৃদ্ধরা 
আমরা যাই কই?

আমরা মিছেমিছিই ভাই ভাই হৈ চৈ রই!


হ্যালো মাফিয়া ব্রাদার

আমাদের ভেজে বড়া করে খাওয়ার জন্য
আমাদের কড়া করে ভাজার জন্য 
আমরা সিস্টেম হয়ে গেছি

আমাদের সকল ডাটা নিয়া নিছে গুগলবাবা
একারণে উর্দ্ধ আকাশের দিকে হাত তুলে
আমরা যা বলি তা হাওয়া হয়ে যায়
টেকনোলজির লম্বা হাতের সাথে পাল্লা দিয়ে 
আমাদের দোয়াগুলা জমিনে ফেরত আসে
আমাদের যাওয়ার রাস্তা থাকেনা আর 
আমরা যাযাবর, উচ্ছন্নে গোত্রে রাতদিন কাটাতে হয়

মনে হয় আমরা সাইজ হওয়ার জন্যই জন্মাইছি
মনে হচ্ছে আমাদের খাওয়ার জন্য
আমাদের ভাইরাস ভাইটিকেও পেছনে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে
যাতে আমরা গলাকাটা মুরগীর মতো
সারাদিন তড়পাতে তড়পাতে তোমার নাম জপতে থাকি
তা না হলে আমরা যা খাই, যেখানে যাই
যেভাবে গলা মেলে গাই 
যা হওয়ার কথা তা না হয়ে উল্টোই রিয়েক্ট হয়
কথার বিপরীতে কথা এলে কেনো গায়ের চামড়া খুলে
ডুগডুগি বাজায়?
হ্যালো হ্যালো মাফিয়া ভাই? 


প্রথম আলো

একদিন আমিও প্রথম আলোর সম্পাদক হবো;-
হয়ে সাহিত্যের বারোটা আমি বাজাবো

ফুল, ফল আর বাতাসের ছবিগুলোর নিচে
কাইয়ুম চৌধুরী লিখবো

হ্যালো- হ্যালো সাজ্জাদ শরীফ ভাই
আপনার সমস্ত প্ল্যান আমি মাটি করে ফেলবো

বিজ্ঞাপন বলতে পত্রিকার পাতায় দিবো
মা -আনিসুল হকের হাসি! 

প্রতি সংখ্যায় কয়েকটি ঘ্যাঁঘ ছাপাবো

একটা আলু পোড়ার গন্ধ ছাপাবো 

এরকম বেশ কিছু কলুম শাকের ডাটা জোড়া দিয়ে 
পাঠককে রাঁধা হলেই, কেল্লাফতে-

নিজের ঘরেই রাখবো ঘুঘুর ডিম-
ফাটাবো আর অনতিক্রম্য বাচ্চা উৎপাদন করবো

মানুষের মন যখন বিষন্ন ও উদাস 
তখন দাঁত কেলানোর ছবিও ছেপে দেবো কারো কারো 
মুখের উপর।


সোনামুখী সূঁচ

শুধু শুধুই মাথায় তেল দিয়ে 
খাড়া করে রেখো না সোনাকে
প্রয়োজনের সময় 
সে যেনো মাথা তুলে দাঁড়াইয়া থাকতে পারে
সে দোয়াই করো
আল্লাহ যেনো রহম করে তাকে

সামান্য বেঁটে ও কালো হলেও সমস্যা নাই
শুধু টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী যেনো হয় সে
যাতে তোমার শরীর ভালভাবে ফুঁড়তে গেলে 
মুখ থুবড়ে যেনো না পড়ে
তার জন্য দোয়া করো
আল্লাহ যেনো তার শরীর ভাল রাখে

তোমাকে দেখামাত্রই যাতে 
হাত পা গরম হয়ে যায়
গরমাগরমি শুরু করে দিতে পারে 
নিজেরা নিজেরাই

সেই দোয়াটাই করো
যেভাবে উত্থিত মিনার বীরের বেশে 
মেঘগুলাকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে 
হাওয়ায় ভাসাতে পারে


ফিলিং

আমারে নিয়া যার ফিলিংস নাই
তারে নিয়াও আমার ফিলিংস নাই

নাই ফিলিংস নিয়া কি করবো
ফিলিংস ফিলিংস খেলা 
এবার বন্ধ করে দেবো

তোমার ফিলিংস পাইলে 
আমার ফিলিংস আবার জাগাবো
আমার ফিলিংস জাগলেও
দরজা বন্ধ করে রাখবো

তোমার শোতানো ফিলিংটারে
আমি কেন বারবার 
নাড়া দিতে যাইবো

তোমার ফিলিংস তুমি 
কোলের মধ্যে করে রাখো
আমার ফিলিংস অনেক ভাল
তার সাথেই আমি পথ হাঁটাবো


টোপার বাইরে পৃথিবী কেমন

আমাকে টোপার ভেতরে আটকে রাখা হয়েছে
মালিকপক্ষ যেভাবে চেংনাওয়ালা মুরগীসহ মুরগীর বাচ্ছাগুলোকে আটকে রাখে
সেভ করার জন্যই মূলত তারা এ পদ্ধতি বেছে নিয়েছে 
যাতে গ্রামের গাওরাগুলোর তীব্র হিংস্রতা থেকে রক্ষা পেতে পারি

সম্ভবত আমিও অনেক প্রকারের মুদ্রাদোষে দূষিত হয়ে পড়েছিলাম
তার মধ্যে অন্যতম দোষ হইলো ঘোড়া ডেঙ্গে ঘাস খাইতে যাওয়া
আমাকে টোপার ভেতরে আটকে রাখার এটাও কারণ হতে পারে

আমার বিবিধ ভালোর জন্য মালিকপক্ষ যতই আমাকে আটকে রাখছে
ততই আমি ভীত সন্ত্র্স্ত হয়ে পড়ছি- মনে হচ্ছে আমার সামনে 
কোনো পথই আর নাই। চতুপার্শ্বে শুধু দেয়াল তৈরি করা হয়েছে-

আমি দেয়াল ভাঙ্গতে চাচ্ছি কিন্তু দেয়াল ভাঙ্গতে যেয়ে নিজেই ভেঙ্গে পড়ছি

আমাকে ভালবেসেছিল যে সুহৃদ, তাকে বলেছি, 
দেয়াল ভেঙ্গে আমাকে বের করো
আমি আলোর মাঝে ঘুরে বেড়াবো। 
কিন্তু কোথায় সুহৃদ? মনে হচ্ছে আমার এ চিৎকার
বৃথা চিৎকার! কোনো সম্ভাবনারই মুখ দেখবে না-

আমি টোপার ভেতরেই টোও টোও করে ঘুরছি 
কিন্তু টোপার বাইরের পৃথিবী কেমন তা দেখার চান্স পাচ্ছিনা

একজন প্রয়োজনীয় বন্ধুর অভাবে সারাদিন বসে বসে মাছি মারি
একজন মেয়েবন্ধুর প্রয়োজন অনুভব করে 
মনে মনে কলা খাই!

আমাকে টোপার বাইরে যেতে দেওয়া হয়না
আমার সকল প্রয়োজনীয়তার মুখ মুঠো মুঠো বালি দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে।


দারিদ্র্য

রফিকুলকে ফোন দিলাম- আয় চা খাবো
রফিকুল উত্তর দিলো, আমি খুবই টায়ার্ড, খুব ঘুম পাচ্ছে।
বিছানা আমায় ডাকছে। 
তোর সাথে কত খেয়েছি রে আগে। আজ যেতে পারবোনা। তুই একাই খেয়ে নে!

একা একা চা খেতে মোটেও ভাল লাগেনা
তাই এ মুহুর্তে ফাঁকা আছে কে? 
ভাবতে ভাবতেই কবিরুলের নাম মনের ভিতরে উঁকি দিয়ে যাচ্ছে
তাকেও ফোন দেয়া হলো, আমার সাথে চা খেতে সেও
নানানপ্রকারের চিন্তাভাবনা করলো
বললো: দোস্ত, আজ নয় আরেকদিনের জন্য তোলা রলো!

পথে ঘাটে যে বেকার বন্ধুটি ফেঁউ ফেঁউ করে ঘুরে বেড়াতো
আমি ডাকাতে সেও ব্যস্ত হয়ে পড়লো!

রশিদ আমার পুরানা বন্ধু, আমাদের বোঝাপড়া ছিলো এক
তবু আমাদের ভিতর অনেক ব্যবধান গড়ে উঠেছে আজ!

ডাকলাম বিপু রিপুকেও
পকেট ভারি থাকতে যারা খোঁজখবর নিতোই
কাঁধের উপর রাখতো হাত
তারাও আজ অথই

লাল্টুকে বললাম, চল যাই
আসি চা খেয়ে
লাল্টু অনেক ধুরন্ধর 
সে ভাবলো, তাকে শো করে
অন্যের কাছ থেকে আমি নাকি মালপানি কামাবোই-
ফলে, সেও এলোনা

কেউ আসেনা 
একা একা চা খেতে দিতে আজ পার্কের বেঞ্চও রাজি না!

মন্তব্যসমূহ