সাহিত্যবিচারে আব্রাহাম মাসলোর চাহিদা সোপান তত্ত্ব যেকারণে দরকারি ।। তালাশ তালুকদার
মানুষ কাজ করে তার জৈবিক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতেই। যেটা দিয়ে সে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। কিন্তু সমস্যা হইলো যখন আপনি শুধুমাত্র লেখালেখিকেই উপজীব্য করে জীবন নির্বাহ করতে চাইবেন তখনই ঘটে আসল বিপত্তি। বাংলাদেশে এখনও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যেটা দিয়ে লেখক শুধুমাত্র লিখেই জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। ফলে, জীবন জীবিকার প্রশ্নে লেখকের আসল বিপত্তি কিংবা সমস্যা তৈরি হয় এখান থেকেই।
খুব কম লেখকই আছে যারা শুধুমাত্র লিখেই জীবিকা নির্বাহ করতে পারে বাংলাদেশে। ফলে লেখকদের জীবিকা নির্বাহ করতে হলে লেখালেখির বাইরেও আরেকটা পেশা নির্ধারণ করতে হয়। যারা আরেকটা পেশা নির্ধারণ করতে পারে তাদের জীবন বহাল তবিয়তে যায়। কিন্তু যারা পারেনা অর্থ্যাৎ যারা চব্বিশ ঘন্টার লেখক হিসেবেই নিজেকে দেখতে চায় তাদের ক্ষেত্রে খুবই সংকটাময় পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এখন প্রশ্ন, যারা লেখালেখির বাইরেও আরেকটা পেশা নিয়ে থাকতে হয় তারা কি শেষ পর্যন্ত লেখালেখিতে ঐ জায়গায় অর্থ্যাৎ চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে? পারলেও কি সেটা লেখকের মনঃপুত হয়? জীবনানন্দ দাশ তার নিজের চাকুরি করা নিয়ে দারুণ অস্বস্তিতে ছিলেন। আমার মনে হয়, শুধু জীবনানন্দই নয়, পূর্ব থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত অনেক লেখকই লেখালেখির বাইরে অন্য পেশা নিয়ে খুব বেশি স্যাটিসফাই হয়ে আছে তা নয়।
তাহলে একজন লেখকের বিকাশ কিভাবে হবে? মার্কিন সাইকোলজিস্ট আব্রাহাম মাসলোর চাহিদা সোপান তত্ত্ব এক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে। মাসলো বলতে চেয়েছেন, ব্যক্তির কাজের প্রত্যেক ধাপেই তার কাজের মূল্য দিতে হবে। এই মূল্য না পেলে ব্যক্তি তার পরবর্তী ধাপে আগাতে পারবেনা। অর্থ্যাৎ, একজন লেখক যে বই লিখলো তার জন্য সে তার মূল্য না পেলে সে চাইলেও আর আগাতে পারবেনা।
এখন প্রশ্ন এই মূল্য কে দিবে? লেখকের বিকাশই হবে কিভাবে? নিশ্চয়, এর দায়ভার রাষ্ট্র, সমাজ কিংবা গোষ্ঠির দায় আছে।
একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, একজন আমলা, একজন ব্যাংকার যদি স্ব স্ব ক্ষেত্রে বই লেখার সুবাদে তারা তাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে কিংবা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারে তাহলে লেখকের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হবে কেন?



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন