সাহিত্যের সব পুরস্কারের পেছনে কি রাজনীতি নেই?।। তালাশ তালুকদার

 


আচ্ছা, আপনারা কি মনে করেন নোবেল কমিটিতে যারা থাকে তারা সব দেশের লেখাপত্র জাজ করার পরই নোবেল প্রাইজ ঘোষণা করে? মানে, সর্বশেষ প্রকাশিত বই সম্পর্কিত তাদের ধারণা থাকে?

আপনারা কি মনে করেন নোবেল কমিটিতে যারা থাকে তারা রাজনীতির উর্ধ্বে অবস্থান করেন? মানে, নিরপেক্ষতা অর্থ্যাৎ, বায়বীয় এই ধারণা তারা পুষে নোবেল প্রাইজ দেন? যদি নিরপেক্ষতা না থাকে তাইলে তারা কাদের পারপাস সার্ভ করে বলে মনে করেন? 

আপনারা কি মনে করেন না নোবেল প্রাইজ পাওয়া সহ যেকোনো প্রাইজ পাওয়াটাই এক ধরণের সম্পর্ক চর্চার ফল। যার যত কমিউনিকেট পাওয়ার স্ট্রং সে পায়। ভারতবর্ষ থেকে যারা নোবেল পাইছে মানে, (রবীন্দ্রনাথ, ড. মুহম্মদ ইউনুস, অমর্ত্য সেনরা) তারা শুধু মাত্র ভারতবর্ষের কমিউনিটির ভিতর থাকলে তারা কি নোবেল প্রাইজ পাইতো বলে মনে করেন? 

আপনারা কি মনে করেন যারা নোবেল প্রাইজ পায় শুধুমাত্র তারাই শ্রেষ্ঠ, সেরা হয়? দ্বিতীয়/ তৃতীয় শ্রেনীর লেখকদের ঘরে পুরস্কার শোভা পায়না? 

প্রতি বছর নোবেল পুরস্কার নিয়েই দেশে দেশে এত হৈচৈ হয় কেন? অর্থমূল্য বেশি বলে? তার মানে, যে প্রতিষ্ঠান বেশি অর্থ দিয়ে লেখককে কিনে নিবে সে লেখকই গুরুত্বপূর্ন? 

অর্থ্যাৎ, অর্থনৈতিক ভ্যালু দিয়েই আমরা আমাদের সাহিত্যমূল্য জাজ করি? নাকি অন্য কিছু? হ্যাঁ আরো কিছু তাতে থাকে। পুরস্কারপ্রথা চালু রাখার অন্যতম কারণ হইলো, ব্যক্তির কাজকে মূল্যায়িত করা। কিন্তু এর ভেতরেও আরো সূক্ষ্ম কিছু বিষয় থাকে। যা উন্মোচিত হয়না। 

যে প্রতিষ্ঠান যে ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করে তার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানেরও স্বার্থসিদ্ধির ব্যাপার থাকে। রাজনৈতিক লক্ষ্য থাকে। পুরস্কৃত ব্যক্তি দ্বারা প্রতিষ্ঠানের কাঙ্খিত লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিকেই পুরস্কৃত করতে চাইবেনা। তাহলে অনেকেই হয়তো বলতে চাইবেন, তাহলে কিছুদিন আগে ভারতের এক গরীব সাহিত্যিক হলধর নাগ যে পুরস্কার পাইলো, তার দ্বারা প্রতিষ্ঠান কি উপকৃত হবে? হ্যা, এটাও প্রতিষ্ঠানেরই রাজনীতি। হলধর নাগের গরীবিপনা বেচার রাজনীতি। 

কর্পোরেটরা ব্যবসা ছাড়া কিছুই বোঝেনা। আর এই পুরস্কার প্রথা জারি রাখার পেছনে কর্পোরেটদের হাত আছে। কর্পোরেটরা বিভিন্ন সুকৌশলে লেখকদের গরীবি চেহারা, লেখকদের আদর্শ নীতি, লেখকদের রাজনীতি, লেখকদের ইমেজ কর্পোরেটরা বিক্রি করে খায়। 


মন্তব্যসমূহ