প্রকাশিতব্য বই `মনে হয় আমিই রবীন্দ্রনাথ দাস' থেকে ২৮ টি কবিতা।। তালাশ তালুকদার

আমার বিভিন্ন রূপ

আমি গাধার মত নির্বোধ ছিলাম 
যেকারণে তুমি খুব সহজেই আমাকে ব্যবহার করতে পারতে

আমি ছিলাম তোমার হাতের শেকলপড়া বানর
যেকারণে তুমি চাইলেই আমাকে পারতে নাচাইতে

আমি ছিলাম হাতির মত
আমাকে হাটে বাজারে প্রদর্শন করে 
তুমি রোজ রোজ আয় রোজগার করে খেতে

ব্যাঙের মত দিনযাপন করতাম
যেহেতু কুয়োর ভেতরে থাকতাম 
ফলে একটু বৃষ্টি হলেই ঘর থেকে বের হয়ে হাঁটুপরিমান জলের ভেতরে
গলাফুলে ঘ্যাঙ্গর ঘ্যাঙ্গর করে তোমার গুণগান করার চেষ্টা করতাম

পশু সম্প্রদায়ের ভেতর আমিই সবচেয়ে হিংস্র এটাকিং জানোয়ার ছিলাম
আমাকে সারাদিন বসে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলে
যেকারণে খাঁচার ভেতর আটকে রেখে 

আমি চাইছিলাম সব সময় তোমার দু’হাত সৌন্দর্য্যে ভরা থাক
একারণে তোমাকে বার বার ফুল উপহার দিয়ে গিয়েছি
ফুল উপহার দিতে গিয়ে যেসব গাছ থেকে ফুল ছিঁড়েছি
সেসব গাছ চিৎকার করে উঠে আমায় বলেছে ঘাতক, ঘাতক-

আমি পানি পান না করেও তোমাকে পান করানোর জন্য
দিনের পর দিন ব্যাগে পানি বহন করে 
নিজেকে বুঝ দিচ্ছি, আমি তো মরুর উঠই হয়ে উঠেছি
নইলে কেন এই মরুতে আমি জীবন কাটিয়ে দিতে এসেছি।


হাবা হাসমত

আমি হাবা হাসমতকে চিনি
হাবা হাসমত টিভি দেখে 
টিভি নায়িকার অভিনয়কেও 
হাবা হাসমত বাস্তব মনে করে কাঁদে।

হাবা হাসমত বোকা
হাবা হাসমতকে লোকেরা ঠকায়
হাবা হাসমত আবার
তাদের পিছে পিছেই 
ঘুরে ঘুরে হয়রান হয়!

হাবা হাসমত কল্পনায় ওড়ে
হাবা হাসমত ঘোড়ার ডিমকে
সত্যিকারের ডিম মনে করে

হাবা হাসমত মিথ্যা বোঝেনা
হাবা হাসমত মিথ্যা না বোঝার 
প্রায়শ্চিত্ত করে!


নিজেকে বৃষ্টির ফোঁটার মতো লাগছে

নিজেকে বৃষ্টির ফোঁটার মতো লাগছে 

এত এত বৃষ্টি হচ্ছে 
অথচ বৃষ্টির ভেতর 
কেউই ভিজতে চাইছেনা 

সবাই ছাতা মেলে
বৃষ্টির ছাঁট থেকে 
নিজেদেরই বাঁচাতে চাইছে

আর আমি ঐ অনেক উঁচুর 
আকাশ থেকে পড়ে 
নিজ গরজে 
ডোবা নালার ভেতর দিয়ে 
নিজেকেই বয়ে নিয়ে যাওয়া লাগছে

তবু কেউ এগিয়ে আসছেনা 
বৃষ্টির পানি কিংবা ফোঁটা সংগ্রহ করতে!


যাকে ডাকি সেই বজ্রপাত হয়ে আসে 

যাকে ডাকি সেই বজ্রপাত হয়ে আসে 

এমনই সময়
মাথায় মাথাল দিয়ে 
আটকানো যাচ্ছেনা ঝড় বৃষ্টি

চুঁইয়ে পড়ছে 
তাও বোঝা যাচ্ছেনা 
চোখ থেকে নাকি মাথাল থেকে

এক অস্পষ্ট দিগন্তের মাঝে দাঁড়িয়ে আছি 

প্রতিকূল পরিবেশ

দেখা হচ্ছে কেবল পিছলে পড়া জীবের সাথে
ভালভাবে হাঁটতে পারে এমন কারো সাথে দেখা হচ্ছেনা

সিদ্ধান্ত নিয়েছি আবহাওয়া অফিসের খবর বিশ্বাস করে আর বাড়ির বাইরে বের হবোনা।


রশি টানাটানি

ভাল থাকার জন্য রশি টানাটানি চলছে
কে জিতবে বলা যাচ্ছেনা
তবে দুজনার কেউই ছি ছাড়ছেনা

রশি পড়েছে বিপাকে 
দুজনার টানাটানিতে রশিটাই কি যাবে ছিঁড়ে
নাকি রশিটাকে আসল লোকই পাবে

রশি, রশি তুমি বিশ্বাস রেখো
আসল লোক 
তোমার হাত ছেড়ে দিবেনা

তোমার পাশে কে মানাবে 
এতদিনেও কি বুঝছো না? 

চলে এসো রশি 
আমরা দুজনেই গাছ থেকে বাধা বাধা ডাব পাড়ি।


মনে হয় আমিই রবীন্দ্রনাথ দাস

পানি নাই খাবার নাই 
জ্বালানীর ড্রাম ও বাঁশ ধরে 
সমুদ্রে ভাসছি 

কোথায় এমভি জাওয়াদ?

ঝড়ে ট্রলার ডুবে গেছে
বঙ্গোপসাগড়ে, হলদিয়ার কাছে। 

পাঁচদিন ধরে পেটে পড়েনি কিছু
কিন্তু হাঙর পেট ভরাতে চাইছে

ছুঁড়ে দাও লাইফ জ্যাকেট 
সমুদ্র শুধু নিচে টানছে আর টানছে 

বৃষ্টির জল খেয়ে বেঁচে আছি
বৃষ্টির জল খেয়ে কতদিনই আর বাঁচি?


আমরা কি পারব?

সে আসবেনা, কেউ আসবেনা
তার মানে আমরা কি গোছ হতে পারব না? 

হিন্দু মুসলমানের পাহাড়সমান দ্বন্দ্ব
এত পর্বত সমান পাহাড় কেটে 
কিভাবে চলার পথ বানাব? 
রাস্তার দু পাশে কিভাবেই বা লাগাব 
একত্রে হিন্দু গাছ ও মুসলমান গাছ?
তাদের মধ্যে কি কথা কাটাকাটি হবেনা?

তাও না হয় হলো
কিন্তু কিভাবে দুজনে একত্র হব? 
আমরা নাকি পারব?

অথচ কেউই উদ্যোগী নই
কেউই বলছিনা ঘরে আলো ঢুকুক, বাতাস ঢুকুক
অপরিচয়ের সাথে পুরোই পরিচয় হোক!
কেউই খুলছিনা জানালা


প্রেমিকারা

চাইছিলাম রিমঝিমকে; চাইছিলাম সীমাকে 
সীমা আটকে আছে কাঁটাতারের বেড়াতে
রিমঝিম সেও ভুলতে পারছেনা স্মৃতির মানুষটাকে

সবাই চলে গেছে একে একে
বহু আগে কম্পন ধরিয়ে 
বিরহের সুর মুখে তুলে দিয়ে
বীনাই গেছে প্রথমে 

তারও আগে এক প্রতিবেশিনী ছিল 
সে অবশ্য ততোটা বাসতোও না ভাল
শুধু আমিই ভালবাসতাম
ভালবাসা না পেলে
মাঝে মাঝে
মুখও কালো করে থাকতাম

কিছুদিন কথা হয়েছিল আনজুমের সাথে 
আশার আলো দেখা যাচ্ছিল তাতে করে
কিন্তু সে আলোও নিভে গিয়েছিল অন্য অন্য কারণে

অনেক ভাল লেগেছিল মোত্তাহেরাকে
মনে হচ্ছিল সে ফোটাবেই ফুল
কিন্তু সেও কি কারণে যে
ছেড়ে যাবার জন্য হয়েছিল ব্যাকুল

নারগিসকে কি আর বলব
তাকে নিয়ে কত্ত যে একা একা ভেবেছি
তার একচুলও কি বলতে পেরেছি?

কিংবা যারাও আমাকে বলেছিল ভালবাসি 
তাদের সাথে কি আজ আমি আছি?
তারাও কি আছে তাদের সাথে 
যারা ফেলে এসেছে নিজ নিজ স্মৃতিগুলোকে!


আমি কি ভুলতে পারব

আপনারা চান আমি অপরাধী হয়ে উঠি 
হত্যা করি কোনো ম্যাচিউর কবিতাকে
হত্যা করি গানের গলাকে
হত্যা করি শিল্পীর নৃত্যকে।

যদি তাই না চান তাহলে পথরোধ করে সামনে দাঁড়িয়ে আছেন কেন? 
কেন পিপীলিকার মত চলতে দিচ্ছেন না আমাকে পায়ে পিষতে চাইছেন প্রিয় কমলালেবুকে।

আমি আপনাদের থেকে বড় বটগাছ হতে চাইনা
আমি চাই বটগাছের ছায়ায় আরো আরো উদ্ভিদের মত বেঁচে থাকতে। 

আমি ভেবেছি, আপনারা সহযোগিতা করবেন একটা নিঃশ্বাসকে বাঁচিয়ে রাখতে 
কিন্তু প্রত্যেকে বাঁচার জন্যই নিজ নিজ মরণের সামনেই দাঁড়িয়ে আছে, তা বুঝিনি। 

আমি এখন কি করব? 
নাকি শাপলা ফুল হয়ে ছোট্ট পুকুরের মাঝেই ফুটে থাকব?
ধানের জমিতে হাঁটুগেড়ে বসে বসে কানবো? 

আবারও বলতেছি আমি কি করব বুঝতেছিনা
মনে হচ্ছে কয়েক কিলোমিটার দূরে আছি 
নিজেই নিজের থেকে। 

আমার সামনে কোনো সবুজ সংকেত নেই
যা দেখে বুঝতে পারি, এটাই চারণভূমি। 

আমাকে চেনানোনোরও কেউ নেই 
কেননা আমার পরিচয় হয়েছিল কিছু শিম্পাঞ্জি ও চক্রবাক পাখির সাথে। 

যারা নিজেদের কলিজা ভরা ছাড়া অন্য কেউ পাথর খেয়ে হলেও বেঁচে থাকবে এমন ভাবনা স্বপ্নেও দেখতে চায়না। 

আমি তাদের ভুলে যেতে চাইছি নির্মম নিমের জুস খেয়ে...

আমি কি ভুলতে পারব?


আমি নামক মানুষটি খুবই সস্তা

আমি এতই সস্তা যে, যে কেউ ডাকলেই 
চিঁ হিঁ করে দৌঁড়ে তাদের কাছে যাই

কে কতটুকু যোগ্য 
সেটা ঘূনাক্ষরেও মাথায় আনিনা

আমি সরল মনে মিশে গিয়ে দেখি
বিনা পারিশ্রমিকে তারা আমাকে আবার 
অধিনস্তও করে রাখতে চায়

আমি বিনা পারিশ্রমিকের কলগার্ল হয়ে উঠি

আর তারা আমাকে রাতে বিরাতে 
তাদের ইচ্ছামত লাগাতে থাকে
লাগাতে লাগাতে ব্লাডার পর্যন্ত ফেটে ফেলে

সস্তা না হলে কে পারে আমার সাথে?


বয়স

কি হবে নিজের দিকে তাকিয়ে 

চলেই তো যাচ্ছে...

হাজারো চেষ্টা করেও
বেঁধে রাখা যাচ্ছেনা তাকে

মনে হচ্ছে হাতের তালুতে 
কেউ গরম কয়লা রেখে দিয়েছে!


কারো মাথা ব্যথা নাই

কাকে বলবো, আর কে শুনবে
সবাই কানে তুলো দিয়ে আছে

কেউ কেউ আশ্বস্থ করেছে
ভোর হলে পাখিই ডেকে তুলবে

এই ঘনঘোর রাতে বসে থাকবো
তবে কার হাত ধরে?

যার হাত ধরে বসে থাকার কথা 
সেও নাক ডেকে ঘুমোচ্ছে নিশ্চিন্ত মনে

এখন কি করি, কই যাই
কেউ কি আছে কারো মনে?

নাকি যে যার মত
কারো জন্য কারো মাথায়-
-ব্যথাই নাই। 


তুমি আমি

ধীরে ধীরে তুমি 
গ্রীপের বাইরে চলে যাচ্ছো

মন ছটফট করছে পাখি
কারো ঢিল খেয়ে
ব্যথা পেয়ে
বিছানায় শুয়ে শুয়ে
কাতরাচ্ছো নাকি?
যেভাবে প্রতিরাতে
আমিও কাতরাইতেই থাকি

এভাবে আমরা দুজনে 
কাতরাইতে কাতরাইতে 
দু’জনার বাইরেই চলে যাচ্ছি

কই গো তুমি? -করছো কি?


উপেক্ষা

বাড়তি বোঝা হয়ে আছি
মানুষের শরীরে চর্বি জমলে যেমন বেখাপ্পা, বেমানান লাগে অন্যদের চোখে 
তেমন হয়ে আছি

কেউ দেখেও দেখছেনা, কেউ শুনেও শুনছেনা
মুখ তুলে তাকিয়েও কেউ বলছেনা 
কেমন আছি? এখন কি করি?

তবু উপযাচক হয়ে বলি 
আমাকে বালুর বস্তার সাথে বেঁধে নদীতে ফেলে রাখা হয়েছে
আমি তলিয়ে যাচ্ছি, আমি হাবুডুবু খাচ্ছি
আমার ভেতরটা হাঁওমাঁও করে কাঁদতে শুরু করেছে
তোমরা কেন কেউ কিছু শুনছো না? দেখছো না?

আমি কি তবে বিকট শব্দ কোনো?
কান ফেটে যাবে এই ভয়ে কথাগুলো বিস্ফোরিত হওয়া মাত্রই 
কানে দু’ আঙুল ঢুকিয়ে দিয়ে পরিত্রাণ পেতে চাইছো!


কোনো অনুতাপ নেই

জল ঘোলা কম করিনি
যখন বুঝেছি 
পথ অথই
তখন অনুতাপও আর রাখিনি

জন্ম থেকেই যে
ট্রেডলমেশিনের উপর
হাঁটছি আর হেঁটেছি!


গর্ভের ভেতর যন্ত্রনা

যখন গ্রামে থাকি ছায়াগুলো আমার পিছে পিছে দৌড়াইতো
শহরে গেলে ছায়াগুলো পায়ের কাছে বসে পড়তো
মহানগরে এলাম -এখন দেখি তুমি আমার আগে আগে ভাগছো!

চোখ ফিরালাম ছিন্নমূল মানুষের দিকেঃ তাদের দুঃখ দুঃখ মন
কালো চেহারার দিকে তাকালামঃ কালো চেহারা ঢাকার জন্য 
যে যত তাড়াতাড়ি পারতেছে যন্ত্রনাগুলারে মাটিচাপা দিচ্ছে!

অনেক জলের বদলে ধানের খোঁজে ধানমন্ডিতে আছি তাই
কিন্তু এখানকার গৃহস্থরাও ধান না পেয়ে মাটিতে মাথা আঁছরাচ্ছে!

কারওয়ান বাজারে দাঁড়াইলাম কিছুক্ষণঃ এখানে বাজার আর বাজার 
লোকেরা মাথার খোকসাটা বেচাবেচি করছে

কল্যানপুরে কল্যান কই? -স্থায়ী বসত গড়বো কিনা
চিন্তাটি আসা মাত্রই চিহৃটি চিরে করে হৈ চৈ!

মালিবাগে মালিদের দেখা নাই -শেরাটনে শুধু সেরাদের মেলা
বাংলামোটরে নেই বাংলার আবহাওয়া! 

হাজারিবাগে আহাজারি- পরীবাগে নাই পরীমনি-
সাংসদদের ফাও ফাও গল্প শুনতে এবার সত্যি সত্যিই 
বাস থেকে ফার্মগেটে নামি!

কলাবাগানে কলার বসত নাই- দূরের ট্রিপ থেকে এসে 
দোকানের কলাগুলোকে দেখি 
কাঁধে কাঁধ মিলে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলতেছে!

ছবির হাটেও যাওয়া হয় কিন্তু প্রধান ছবিরে পাই না
শাহবাগে আসি আর যাই -বুকের ভিতর 
সূর্যের বাজনা আর বাজেনা!


আমাকে ধাক্কা দেওয়ারও লোক নেই

অনেকের অনেকেই থাকে
কেউ গর্তে পড়ে গেলে
তাকে গর্ত থেকে টেনে তোলারও অনেক মানুষ থাকে

অনেকে আবার খানাখন্দের উপর শুয়ে
ভুক্তভোগীকে পিঠে সওয়ার করে 
কাঙ্খিত গন্তেব্যে পৌঁছে দিতে দেখা যায়

কিন্তু আমার তেমন কেউ নাই
ইভেন, আমাকে ধাক্কা দেওয়ারও কেউ নাই

যখন রাজনৈতিক ছিলাম না
তখনো পাইনি কারো দেখা
তুমুল রাজনৈতিক যখন হলাম
এখনো দেখছি সবার ঐ একই রকমের চেহারা

আমার কেউ নাই--
উড়তে না পারা 
পাখিটার মুখে আদার তুলে খাওয়ানোর মতো
কোনোও পাখিও আর নাই, নাই।


জ্যান্ত জীবনের জন্য অনুতপ্ত

তুমি ভাবছো নিশ্চয়ই কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটবে 
তোমার জীবনে; যে অলৌকিক ঘটনা 
তোমাকে উদ্ধার করবে বাস্তবতার হাত থেকে।

কিন্তু কোনো অলৌকিক ঘটনাই ঘটবেনা তোমার জীবনে। 
তুমি প্রতিদিন বাস্তবতার ঘা খাবে
বাস্তবতার ঘা খেয়ে খেয়ে বুঝবে জীবনের স্বাধ আসলে তেতোই- 
মিষ্টির স্বাদ তুমি পাবেনা কখনোই। 

ঐ যে বড় বড় বিল্ডিংয়ের ভিতর যারা বাস করে 
দূর থেকে যাদেরকে মনে করো 
কতই না সুখের দিব্যি জীবন কাটিয়ে দিচ্ছে-
যাদেরকে দেখছো হাসিখুশি; গালটাল ফোলা টোলা- 
ঘুমে কাতর, তাদের ভেতরেও একরাশ বিলাপের ধ্বনি 
নিঃশ্বাসের সাথে উঠছে আর নামছে।


ফিরতে পারবোনা

ফিরতে পারব না জেনেই
ঢিল ছুঁড়েছি, যাতে মাথা ফেটে চৌঁচির হয় একেকজনের

শুধু আমার একার হৃদয়ই কেন রক্তাক্ত লাল হবে
তোমারও হোক কিছুটা; যাতে লোকে বুঝতে পারে
তুমিও এ হৃদয়ের পাশেই ছিলে
যেকারণে তুমিও রক্তাক্ত হয়েছ

গাছে উঠার অনেক চেষ্টা করেছি 
কিন্তু প্রতিবারই মড়কা ডাল ধরেছি
যে কারণে প্রতিবারই ডাল ভেঙ্গে মাটিতে পড়েছি
আর তুমি মিচকা শয়তানের মত হো হো করে হেসে উঠেছ
সে হাসির শব্দে দুনিয়ার কান ফেটে গেছে
আর তুমি থামতেইছোনা, হাসি থামাইতেই চাইতেছোনা মোটেও

তোমার কেন বোধোদয় হচ্ছেনা
আয়নায় ঢিল ছুঁড়লে লক্ষ্যবিন্দু ছাড়াও ফেটে যায় চতুর্দিকে

আমি সব রকমের চেষ্টাই করেছি 
মানুষের জান বের হওয়ার আগে যেমন মানুষ সব চেষ্টাই করে 
তেমন চেষ্টা করেও দেখেছি 
ফেরাতে পারিনি।


প্রণয়

মাউরো হয়ে ঘুরতে পারবোনা আর
কপালে যদি লেখাই থাকে
তাহলে দ্রুত মালা এনে দাও
গলায় পড়াই তাকে

সময় বয়ে যায় গাছতলা দিয়ে
ছায়াগুলো আটকিয়ে রাখার 
নাইও কোনো উপায়
এদিকে আমার মনও সর্বদা 
হেঁটে হেঁটে তার বাড়ি চলে যায়

চোখ বন্ধ করলে তাকেই দেখা যায়
চোখ খুললেও সেই
পাড়া পড়শীরা কেউ জানে না
সে কথা আমি জানি
আমি তার কত নিকটতম কেউ

যদি লিখে রাখো কপালে 
তাহলে আসুক সে সবকিছু ফেলে
একটা ঝলমলে সকালের খোঁজে
তার কাঁধে রাখবো হাত
সেও রাখুক হাত আমার কাঁধে
দেখি আমাদের কে পারে আটকাতে!


আমাকে ‘র’ বলবে কে

মই জোড়া দিয়ে হলেও তালগাছের মতো লম্বা চওড়া হয়ে দাঁড়ায়া থাকতা যদি 
তাহলে পিঁপড়েগুলো শুর শুর করে গাও বেয়ে উপরে উঠার চেষ্টা করতো-
গলা থেকে পাকা পাকা তালগুলো পেড়ে 
বাজারে নিয়া যাইতো
ক্রেতারা আঙুলে টিঁপে টিঁপে 
পরীক্ষা করার চেষ্টা করতো যখন, তখন বলতাঃ
দেখুন ভাই, এটা নিজ গাছের তাল
ভাঁপ দিয়ে পাকানো হয় নাই
বাজারে অনেক ফরমালিনযুক্ত তাল পাবেন
দেখবেন গায়ে রোদ পড়ে 
কেমন হলুদ হলুদ ভাব ফুটে উঠেছে
কিন্তু সেগুলাকে কি দেশি মনে করবেন?
এ বাজারে অনেক মৌসুমী ব্যবসাদার লোক পাবেন 
কিন্তু আমার মতো বারোমাসী তাল দেওয়ার লোক পাবেন?
কিনুন কিংবা না কিনুন
বাজার যাচাই করে 
এরকম তামাটে গায়ের ‘র’ তালটাই কিনুন।


সূর্যের কপাল

কোনো দরকারই নেই 
নিজের পায়ে কুড়াল মারার
তার চেয়ে আঙ্গুল ফুলে হও কলা
শক্ত ভিতের উপর 
তবেই দাঁড়িয়ে থাকবে 
তোমার কথা

চাঁদ তার গা থেকে আলো বের করে দিচ্ছে
বাতাস পাল্লাপাল্লি লাগছে গাছের সাথে 
সূর্য পুড়ে দিতে চাইছে কপাল
তখন থাপ্পড় মারার কি দরকার
যখন কোনো কিছুতেই কারো ব্যথা জাগে না! 

এখন বলো না কিছুই
নদীর কোমড়ের উপর সাঁতরাও
খুঁজে পাবে কূলের বুক
জলের ঝাঁপটা পেয়ে 
কেঞ্জুল উঠে যাবে চোখ থেকে! 

সবাই ভেজা বেড়াল হয়ে আছে
তা থাকুক সবাই এভাবে
ভবিষ্যতকে তার হাতের উপর ছেড়ে দিলে
সূর্য নিজে নিজেই তার কপাল খুঁজে পাবে!


সুযোগ্য বন্ধুরা

এত করে বলার পরও 
যখন তোমাদের টনক নড়লো না 
তখন বুঝলাম এতদিন আমি 
ভুল মানুষদের সঙ্গে সঙ্গ দিয়েছি 

যারা মনে মনে সুযোগ খুঁজতো 
কখন আমি বিপদে পড়বো
আর কানসারা জুড়ে কয়েকটা থাপ্পড় 
লাগিয়ে দিতে পারবে আমার গালে মুখে

তারা আমার সঙ্গে আলাপ করতো 
আমার দুর্বলতাগুলো জেনে নেওয়ার জন্য
যাতে সময় হলেই কাঁটা ঘায়ের উপর 
নুনের ছিটা দিতে পারে

আমি তাদের সাথে 
সরল মনে মিশে গিয়ে বলে দিয়েছি
আমার ব্যাংক একাউন্টে
জিরো জিরো ব্যালেন্স রয়েছে
এ কথা বলামাত্রই দেখতে পাচ্ছি 
বন্ধুগুলো আমার টুঁটি চেপে ধরেছে

আমার গলায় জুতোর মালা পড়ানোর ব্যবস্থা 
সেই করতেছে 
যাকে আমি 
জাহান্নামের চৌরাস্তা থেকে ফিরিয়ে এনেছি

যেসব শুভার্থীরা ভাল চেয়েছে 
তারাই আমার সম্পর্কে 
ঘৃণা কিংবা অপবাদের 
রেঁস্তোরা খুলে বসেছে

সাধারণ মাছিরা সেখানে ভনভন করে উড়ছে!


ওরা খুনি

ওরা আমাকে মাঠের ভেতরই দাঁড়াতে দেয়নি
আমার পায়ের নিচে মাটি থাক সেটা তারা চায়নি
ওরা আমার শক্ত মেরুদন্ডকে ধুলোয় মিশে দিয়েছে
ওরা আমাকে নিয়ে ছেলেখেলা খেলেছে

আমার স্বপ্নগুলোকে ওরা আলকাতরায় ঢেকে দিয়েছে
আমি যেদিকে গিয়েছি সেদিকের চিহৃ ওরা মুছে দিয়ে গেছে

আমি দু'হাত খুলে লিখতে চেয়েছি
কিন্তু ওরা লেখার উপকরণ হাতে তুলে দেয়নি
এমনকি কলমি গাছের ডগা দিয়েও লিখতে চেয়েছি
কিন্তু ওরা সেটাও কেড়ে নিয়েছে
আমার পরিস্ফূট সকাল ওরা চায়নি

আমাকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে
ভিন্ন দিকে পরিচালিত করা হয়েছে

ওরা আমাকে মালয়েশিয়া পাঠিয়ে লেবার বানিয়েছে।


প্রশ্ন

প্রশ্ন করলেই যদি তর্ক মনে করো 
তাহলে প্রশ্ন করবোনা-
ঝরা লতা পাতা ঘাসদের থেকে 
উত্তর চেয়ে নেবো-

পাথরকেও জিজ্ঞেস করবোনা
কেন এই স্থিতাবস্থা
নিজের শরীর নিজে
কেন টেনে নিয়ে যেতে পারছেনা

প্রশ্ন করলেই যে উত্তর আসবে 
এমনও নয় ব্যাপারটা
অনেক উত্তরই কেননা
উত্তরের কাছেই থাকেনা

মাছেদের কাছে প্রশ্ন অনেকেই করে
মাছেরাও পারেনি উত্তর দিতে
কুমিরের পেটের ভিতর 
কেন সে ঘুরছে!


ভাগ্যরেখা

যতোই দৌড়াও ভাগ্যে না থাকলে কিছুই পাবেনা
পাতে তুলে রাখা খাবারও হাতে তুলে খেতে পাবেনা
প্রিয়সী যতোই চোখের সামনে দৃশ্যমান থাকুক 
অদৃশ্যের ছোবলে তাকেও হাতের নাগালে পাবেনা

ভাগ্যে থাকলে সবই আসবে দৌড়ে দৌড়ে
কোনো কিছু পাওয়ার জন্য কখনো 
মেঝেতে হাঙ্গুর পাড়ে পাড়ে কাছে যাইতে হবেনা
দুঃসংবাদ যেমন বাতাসের আগে আগে দৌঁড়ে বেড়ায়
তেমন করে আমরা না চাইলেও 
আমাদের কানে সুসংবাদ কেউ না কেউ পৌঁছে দেবে

আমরা এক অদৃশ্যের বাগানে বড় হচ্ছি
আমাদের দৃশ্যগুলো অদৃশ্য থেকে পরিচালিত হচ্ছে
একমাত্র সেই জানছে, আমাদের জন্য কত কেজি চাল আর আটা
বরাদ্দ করা হয়েছে।


সোনার মাছি খেদাতে এসে

প্রেমের জন্য তট চাটি
মেশিন চালাতে খুঁজি মন
পাথরের হাত ধরি 
শক্ত করে-
চুম্বন না পেলে
আমার ঠোঁটে তো
সিগারেট মানাবেই!

প্রেমের জন্য তট চাটি
মেশিন চালাতে খুঁজি মন;
কথাগুলো রাখি ঘরে
কথাগুলো বের হলে দেখবেন
হাওয়ার হাত ধরতে হাফসোল খাচ্ছে!

এসেছি সোনার মাছি খেদাতে
কিন্তু হাত বাঁধা আছে রশ্মিতে!


রাগে ফুলছে হাওয়া

চোখরোচক মেয়ে দেখে 
রাগে ফুঁসছে হাওয়া
মিসেস মিসেস বলে ডাকি
এসো মিসেস
এবার সব কিছু ঢিসমিস করি!

আমি ঘোরাফেরা করতে চাই
তোমার শরমের কাছে
আমাকে সুযোগ দাও
নয়তো ভিলেনেরা 
শিস ফোটানোর সুযোগ পাবে। 

আমি তোমায় দিয়েছি দাওয়া
এসো, এসো মিসেস 
রাগে ফুলছে হাওয়া!

মন্তব্যসমূহ