এ আই কি লেখকের বিকল্প?।। তালাশ তালুকদার


এ আই কখনোই লেখকের সমতুল্য হতে পারবেনা। এর অনেক কারণ আছে। প্রথমত একেকজন লেখকের ভাষা একেকরকম। কিন্তু এ আইয়ের ভাষা একইরকমের। এ আইয়ের ভাষার সাধনা নাই। 

দ্বিতীয়ত প্রত্যেক লেখকের পলিটিক্যাল, আইডোলজিক্যাল আইডেন্টিটি থাকে যেইটা লেখকের লেখার মাধ্যমে ফুটে উঠে। এইটা এ আইয়ের নাই। এ আই কৃত্রিম। ফলে কৃত্রিমতা ছাড়া এ আইয়ের সংবেদনশীলতা নাই। যেইটা লেখক হয়ে উঠার ক্ষেত্রে খুবই জরুরি। যেই সংবেদনশীলতা একজন লেখকের সবসময় থাকে। এ আই সাব্জেক্টের বাইরে অন্য কোনো চিন্তা করতে পারেনা। কিন্তু একজন লেখক বিভিন্ন স্পটে আলো ফেলে লেখাটাকে উৎকৃষ্ট করে তুলতে পারে। 

সবচেয়ে বড় কথা হলো, একটা বিষয় নিয়ে এ আই কমান্ড করলে এ আই সবাইকে একই ম্যাসেজ দেয়, ভিন্নতা থাকেনা। ফলে সবার কাছে একই বার্তা, একই রূপ প্রস্ফুটিত হয়। কিন্তু, লেখকেরা প্রত্যেকের থেকে প্রত্যেকে আলাদা হয়। ফলে, আইডেন্টিফাই করা সম্ভব, কে শামসুর রাহমান কে আল মাহমুদ। ভাষা, শৈলী, চিন্তায় পৃথকতা থাকে বলেই একেকজন একেক জাতের লেখক হয়। এ আই কি তাই? নিশ্চিতভাবেই নয়। ফলে, যতই আমরা লেখকের প্রতিদ্বন্দ্বি হিসাবে এ আই কে খাড়া করতে চাই না কেন, লেখকের লেখার ধারেকাছেও এ আই দাঁড়ানোর যোগ্যতা রাখেনা। 

এই কিছুদিন আগেও যখন ইন্টারনেট এসেছিল। তখন অনেকেই বলেছিলেন, বই থাকবেনা। বইয়ের বদলে পিডিএফ কিংবা ইন্টারনেটে লেখাপত্রই দখল করে থাকবে। কিন্তু সেইটা কি সম্ভব হয়েছে? হয়নি। আজকে বইয়ের জায়গায় বইই আছে। এতটুকুও বইয়ের আবেদন ফুরায়নি। তেমনি এ আই এ আইয়ের জায়গাতেই থাকবে, লেখকের সমকক্ষ হয়ে উঠার মত ক্ষমতা অর্জন করতে পারবেনা কখনোই।

মন্তব্যসমূহ