হুমায়ুন আজাদের আধুনিক বাঙলা কবিতা সংকলন নিয়ে দু'চার কথা


হুমায়ুন আজাদ আধুনিক বাঙলা কবিতা নামে একটা কবিতা সংকলন করেছিলেন। সেখানে অনেক্কেই জায়গা দিতে পারেন নাই, কিংবা জায়গা দেন নাই। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও জায়গা দিতে পারেন নাই। যেহেতু উনার সংকলনের নামই ছিল আধুনিক বাঙলা কবিতা। মানে রবীন্দ্রনাথ আধুনিক কবি নয় বকেই তাকে সংকলনে রাখেন নাই। এরকম স্পষ্ট উচ্চারন হুমায়ুন আজাদ করেছিলেন।  বলেছিলেন, তিনি রোম্যান্টিক কবি বাট আধুনিক কবি নন। 

নিজস্ব দর্শন, নিজস্ব চিন্তার সাথে না মেলার কারণে সৌয়দ আলী আহসান, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, আল মাহমুদ, ফজল শাহাবুদ্দিন কিংবা আবদুল মান্নান সৈয়দ থেকে শুরু করে অনেকেই রাখতে পারেন নাই। সেসব পলিটিক্যাল বিষয় নিয়ে উনি আলাপ করেছেন। 

পশ্চিমবঙ্গের অনেক কবিকেও রাখতে পারেন নাই, যোগাযগের অপ্রতুলতায়। বলেছেন, সেসবও। 

ত্রিশ দশকের পঞ্চপান্ডব মানে আধুনিক ৫জন কবিদের আরো বেশি কবিতা ছাপাইতে পারলে আনন্দ পেতেন উনি সেকথাও বেশ প্রফুল্ল চিত্তেই বলতে পেরেছেন। 

কবিদের মান অনুযায়ী কম কিংবা বেশি কবিতা ছেপেছেন। অর্থ্যাৎ যে কবির মান ভাল মনে করেছে সেসব কবির বেশি কবিতা ছাপাইছে। এ সংকলনে সবচেয়ে বেশি কবিতা ছাপাইছে ভাল মানের কবি জীবনানন্দ দাসের।


হুমায়ুন আজাদ আরো বলেছেন, যতই বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকলন গুলোতে বন্দে আলি মিয়া, ঈশ্বরগুপ্ত, কায়কোবাদ, বেগম রোকেয়াদের লেখা ছাপা হোক কিন্তু আধুনিক বাঙলা কবিতাতে তাদের নিতে পারে নাই নিম্নপদ্য হওয়ার কারণে। অর্থ্যাৎ খোলামেলাভাবেই তিনি বলে দিয়েছেন, সবকিছু। 

তারপরও এই সংকলন নিয়েই বেশি বেশি আলোচনা হয়। কেন হয়? 

রবীন্দ্রনাথকে না রাখার কারণে? আপনার কি মনে হয়?



মন্তব্যসমূহ